মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে উন্নয়নশীল ও স্বল্প আয়ের দেশগুলোর অর্থনীতিতেও।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (UNCTAD) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির বিঘ্নের কারণে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার খরচও বাড়ছে। ফলে আগে থেকেই ঋণের চাপে থাকা দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভাও সতর্ক করেছেন, উন্নত দেশগুলোর ঋণ ও বন্ডের সুদহার বাড়তে থাকলে উন্নয়নশীল ও স্বল্প আয়ের দেশগুলোর ঋণ ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। হরমুজ সংকটের কারণে মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক ঋণের চাপ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জ্বালানি ব্যয় বাড়লে পরিবহন, বিদ্যুৎ, খাদ্য ও শিল্প উৎপাদনের খরচও বেড়ে যায়। পাশাপাশি স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন হলে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এতে সরকারের বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন খাতে ব্যয় সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
UNCTAD-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন হলে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং অর্থায়নের চাপ একসঙ্গে বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ জ্বালানি ও খাদ্য আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীল এবং যাদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা সীমিত, তারাই বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জরুরি বৈদেশিক অর্থায়ন, ঋণ পুনর্গঠন এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির গুরুত্ব আরও বাড়বে। সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।