সব সময় সব খানে


বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬

১৪ কার্তিক ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
১৪ কার্তিক ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

>> হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফাহিম ফয়সাল

>> মানুষের কল্যাণে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান লালমনিরহাট যুবদল নেতাদের

>> ভাঙ্গায় সাবেক চেয়ারম্যান লাভলুর অভিযোগের প্রতিবাদে প্রবাসী মিঠুর সংবাদ সম্মেলন

>> পেনসিলভানিয়ায় কোম্পানীগঞ্জ সোসাইটির নতুন কমিটি, সভাপতি রাকিব, সম্পাদক সোহাগ

>> মানুষের দোরগোড়ায় ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানোর উদ্যোগ পূবালী ব্যাংকের

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির।

>> গণশৌচাগার সংকটে লালমনিরহাট শহর, দুর্ভোগে নারী- শিশু-বয়স্করা

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির

>> শিক্ষকদের সম্মিলিতস্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: বাদাশিকস কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি জয়নুল আবেদীন

আপনি পড়ছেন : সারাদেশ

শালবনের সহচর বিজু ফুল


নিজস্ব প্রতিবেদন

eshomoy.com || 2024-04-17
শালবনের সহচর বিজু ফুল

চৈত্রের শেষ দিন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের উদ্ভিদ গবেষক ও নিসর্গী মো. আব্দুর রহিমের আমন্ত্রণে সেখানে পৌঁছে গেলাম সকালেই। প্রথমেই তিনি ড. ওয়াজেদ মিয়া গবেষণাকেন্দ্রের সামনে রাস্তার উল্টো পাশে নিয়ে গেলেন বিজু ফুল দেখাবেন বলে। বললেন, ‘ওখানে কয়েক ঝোপ বিজু ফুলের গাছ আছে, কয়েক দিন আগে সাদা বিজু ফুল ফুটতে দেখেছিলাম সেখানে।’ 

টিনের বেড়া দিয়ে জায়গাটা ঘিরে ফেলা হয়েছে। একটা ফাঁক গলিয়ে দুজন সেখানে ঢুকে পড়লাম। রাস্তার ঢালে কয়েক ঝোপ বিজু ফুলের গাছ ও নিচু জায়গায় দাঁতরাঙার ঝোপ। কিন্তু সেখানে গিয়ে হতাশ হলাম, কোনো ফুল নেই, সব ফুটে ঝরে গেছে। রহিম ভাই ভরসা দিয়ে বললেন, ‘এখানে নেই তো কী হয়েছে, আমাদের সুন্দর বনে আছে, চলেন সেখানে যাই।’

সুন্দর বন! সেটা আবার কোথায়? জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক যে বনটুকু আছে, সেটাই এখানে এ নামে পরিচিত। সে বনে গিয়ে পেলাম শাল, সেগুন, মুচকুন্দ, আনই, কুমারীলতা, ভুঁইচাঁপা, বাজনাগাছের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা বহু বিজু ফুলের গাছ। কিন্তু সেখানেও ফুলগুলো মলিন, শেষের পথে। বনের আরও ভেতরে ঢুকে অবশেষে দেখা পেলাম সেই সতেজ বিজু সুন্দরীদের। প্রথমে সাদা বিজু ফুলের, পরে পেলাম গোলাপি-সাদার দেখা। সে দিনেই মনে হয় ফুটেছে। সাদা ফুলগুলো থেকে চমৎকার ঘ্রাণ আসছে, গোলাপি ফুলগুলোর ঘ্রাণ সাদা ফুলগুলোর চেয়ে কম। গুল্ম প্রকৃতির অনুচ্চ গাছ, ঝোপ করে আছে। জড়াজড়ি করে আছে শালগাছগুলোর সঙ্গে। পাতা বেশ বড়, রঙ্গনের মতো কিছুটা দেখতে। ফুলও পলকজুঁই ও শ্বেতরঙ্গনের মতো। তবে ফুল খুবই ছোট, ফুলনল অনেক লম্বা ও সরু কাঠির মতো। একটা থোকায় শত শত ফুল, হাওয়ায় মাথা দুলিয়ে যেন আমাদের অভিবাদন জানাচ্ছে।

বিজু ফুলের উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Ixora cuneifolia ও গোত্র রুবিয়েসি। অর্থাৎ এরা রঙ্গনের সহোদর, রঙ্গনের ইক্সোরা মহাজাতির গাছ সারা পৃথিবীতে আছে ৫৩০ থেকে ৫৭৬ প্রজাতির, এগুলোর মধ্যে এটি একটি প্রজাতি। তবে রঙ্গনের মতো লালিত নয়। এ জন্য একে বনরঙ্গনও বলা যায়। তবে বইপত্রে এর বাংলা নাম বেওফুল, বিজু ফুল এর স্থানীয় নাম। সাধারণত শালবনের ভেতরে জন্মে, বুনো গাছ। কিন্তু চৈত্র মাসে এসব জংলি গাছে যে অসাধারণ ফুল ফোটে, তাতে ওকে বাগানে ঠাঁই দিতেও মনে হয় কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু কথা হলো সে তাদের সঙ্গে বন থেকে বাগানে যেতে চাইবে কি না বা সেখানে গিয়ে কতটা ভালো থাকবে

বিজু ফুল গুল্ম প্রকৃতির চিরসবুজ গাছ। বাঁচে অনেক বছর। গাছ প্রায় দেড় মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়, ছড়ানো ডালপালা। পাতা উপবৃত্তাকার, লম্বা ও আগা সুচালো। ডালের আগায় থোকা ধরে ফুল ফোটে বসন্তকালে। ফুলের পাপড়ি চারটি, ফুল ঝরে যাওয়ার পর রঙ্গনের মতোই ছোট মটর দানাসদৃশ ফল হয় থোকায়। সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলে ফুল ফোটে, ফল পাকে আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরে, ফল পাকলে হয় লাল। ফলের ভেতরে এক-দুটি বীজ থাকে, বীজ থেকে চারা হয়। আদিনিবাস ইন্দো-চীন অঞ্চল। 

বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতের তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গে বিজু ফুলের গাছ দেখা যায়। কোনো কোনো গবেষক বিজু ফুলকে ঢাকা জেলার আদি গাছ হিসেবে দাবি করে বলেছেন, এর আসল জন্মস্থান ঢাকা অঞ্চলের শালবন। সে হিসেবে সাভারের বিক্ষিপ্ত শালবনে এর কয়েকটা জাতের দেখা পাওয়া মোটেও বিচিত্র নয়। বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়ামের গবেষকেরা এ গাছের দেখা পেয়েছেন রাঙামাটির রামপাহাড়েও। আমাদের দেশি গাছ হলে এ নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা হতে পারে, জানা যেতে পারে এর ঔষধি গুণ ও জাতিতাত্ত্বিক লোকজ ব্যবহারের কথাও।