ঢাকা-সিলেট মহা সড়কের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ও দেবপাড়া ইউনিয়নের মধ্যেবর্তী রুস্তমপুর এলাকায় শাখা বরাক নদীর উপর নির্মিত ব্রীজ। প্রতিদিন এই ব্রীজের উপর দিয়ে চলাচল করে বাস-ট্রাকসহ হাজারো যানবাহন। এই ব্রীজের নিচে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ৭২ বছর বয়সী বৃদ্ধ মোঃ আলাবর মিয়া তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করছেন। অবিশ্বাস্য হলেও সরেজমিনে গেলে চোখে পড়ে তার পরিবারের দুর্বিসহ মানবেতর জীবন যাপনের দৃশ্য। অভিযোগ রয়েছে, এই বৃদ্ধের কপালে জুটেনি সরকারী কোন সহায়তা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বার বার ধর্না ধরলেও মিলেনি কোন সরকারী সহযোগিতা। ভূমিহীন থাকা সত্ত্বেও মিলছে না মাথা গোজার
ঠাঁই। সরকারী সহযোগিতা না পাওয়ায় বৃদ্ধ আলাবর ও তার পরিবারের সদস্যদের চোখে-মুখে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।
স্থানীয়রা জানান, নবীগঞ্জ উপজেলার রুপ্তমপুর গ্রামের ভীটে মাটিহীন বৃদ্ধ মোঃ আলবর মিয়া। নিজের একটি বসতভিটা না থাকায় শাখা বরাক নদীর উপর নির্মিত ব্রীজের নিচে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করছেন। স্ত্রী-সন্তান ও নাতি-নাতনীসহ ১৪ সদস্যর পরিবার নিয়ে তাকে করতে হচ্ছে মানবেতর জীবন যাপন।
প্রতিদিন মাথার উপর দিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চলাচল করে হাজারো যানবাহন। রাতে যানবাহনের শব্দে ক্ষেপে উঠে পরিবারের ছোট শিশুরা। অনেক সময় তারা ঘুম থেকে কেঁদে উঠে। শুধু শিশুরা নয়, পরিবারের বড় সদস্যরাও থাকেন আতঙ্কে। এভাবে বসবাসে প্রতিনিয়ত রয়েছে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি।
এলাকাবাসীর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মিলছে না কাজের সন্ধান। আয়-রোজগার না থাকায় সংসারে দেখা দিয়েছে অভাব অনটন। ঠিকমত পেটে জুটেনি দু' মুঠো ভাত। এমতাবস্থায় বন্ধ রয়েছে পরিবারের শিশুদের পড়াশুনাও। বৃদ্ধ আলাবর মিয়া কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, 'আমি ১৩ বছর ধরে ব্রীজের নিচে থাকি। পরিবারে ১৪ জন সদস্য রয়েছে। চেয়ারম্যান-মেম্বার কেউই আমাকে দেখেনা। খুব কষ্ট করে দিনাতিপাত করছি। বর্ষার সময় ঘরে পানি উঠে যায়। সরকারি ঘর পাওয়ার জন্য কয়েকবার আবেদন করেছি। তারপরও কেউ আমাকে একটি ঘর দিয়ে সহায়তা করছে না।
আলাবর মিয়ার স্ত্রী মোছাঃ রোকেয়া বেগম বলেন, ছেলেরা যদি রোজগার করে। তবে দু'মুঠো ভাত খাই। অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হয়। নাতি-নাতনীদের নিয়ে খুবই বিড়ম্বনায় পড়েছি। ভয় করে কখন জানি গাড়ি উল্টে আমাদের উপর পড়ে যায়'।
স্থানীয় দেবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ বশির আহমেদ বলেন, পরিচয় পত্রে জটিলতা থাকায় তিনি সরকারী সহযোগিতা পাচ্ছেন না। আমরা সরকারি ঘর দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে কাগজপত্র জমা দিয়েছিলাম। তবুও তিনি সরকারী ঘর পাননি। তবে পরবর্তীতে কোন বিষয়ে আমার পক্ষ থেকে ওই অসহায় পরিবারটিকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।
জেলা প্রশাসক ড. ফরিদুর রহমান বলেন, তারা যেহেতু প্রকৃতভাবে ভূমিহীন, খাস জমি বন্দোবস্ত নীতিমালা অনুযায়ী তাদেরকে সরকারি খাস জমি প্রদানে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এছাড়া বৃদ্ধ আলাবর মিয়াকে বয়স্কভাতা প্রদানে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হবে।