কালো গাউন নেই, উকিল-মোক্তার নেই—তবুও আছে ন্যায়বিচারের পরিবেশ। লাল কাপড়ে মোড়ানো এজলাস আর কাঠগড়া ঘিরে গঠিত এই ‘গ্রাম আদালত’ এখন ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গা। ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় পরিচালিত এই আদালত প্রান্তিক জনগণের সুলভ ও স্বল্পসময়ের বিচার পাওয়ার আশার আলো হয়ে উঠেছে।
এক সময় ব্যাপক আস্থার প্রতীক ছিল গ্রাম আদালত। সীমিত খরচে, অল্প সময়ে ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলার নিষ্পত্তিতে গ্রামের মানুষ এখানে ছুটে আসতেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সরাসরি শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে রায় দেওয়া হতো, যা সাধারণত উভয় পক্ষই মেনে নিত।
তবে সময়ের ব্যবধানে কিছুটা আস্থা হারালেও ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রশাসন মনে করছে, সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রাম আদালত আবারও হয়ে উঠতে পারে মামলাজট নিরসনের কার্যকর পথ। সেই লক্ষ্যেই মঙ্গলবার (২০ মে) সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে শুরু হয়েছে ‘গ্রাম আদালত’ বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম। এতে রাজাগাঁও, আউলিয়াপুর, শুখানপুকুরী, গড়েয়া, চিলারং ও রহিমানপুর ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রশিক্ষণে জানানো হয়, দেওয়ানী মামলায় মাত্র ২০ টাকা এবং ফৌজদারী মামলায় ১০ টাকায় ৭ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হচ্ছে অনেক বিষয়। মামলার জন্য উকিল বা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার দরকার নেই। নিজের ইউনিয়নেই ন্যূনতম খরচে মিলছে বিচার।
গ্রাম আদালতের এই সেবা সম্পর্কে ইউএনও খাইরুল ইসলাম বলেন, “মামলার জট কমাতে এবং মানুষের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে গ্রাম আদালত অত্যন্ত কার্যকর। তাই এর কার্যকারিতা বাড়াতে আমরা প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছি। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে উপকৃত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।”
নিচু আয়ের মানুষদের জন্য এই বিকল্প বিচার ব্যবস্থা হয়ে উঠছে সম্ভাবনার একটি পথ। সঠিকভাবে পরিচালিত হলে দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর চাপ কমিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে এই ‘গ্রাম আদালত’।
জেএইচ/ইডি