রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকু (৫৫) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৪ অক্টোবর রংপুর জেলা বিএনপির সম্মেলন উপলক্ষে দলের মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে ঢাকা থেকে রংপুরে ফিরছিলেন লাকু। ফেরার পথে বগুড়ার শেরপুর এলাকায় পৌঁছালে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিএনপি নেতা আনিছুর রহমান লাকুর মরদেহ সকাল ১০টার দিকে রংপুরে পৌঁছালে তার নগরীর নুরপুর এলাকার বাসভবনে শোকের আবহ নেমে আসে। স্বজন, প্রতিবেশী, দলীয় নেতাকর্মীসহ অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এদিন বিকেলে আসরের নামাজের পর রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে দ্বিতীয় জানাজা হবে তার নিজ এলাকার নুরপুর হোমিও কলেজের সামনে। এর আগে মরদেহ রংপুর শহরের গ্র্যান্ড হোটেল মোড়স্থ বিএনপি কার্যালয়ে নেওয়া হবে, যেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তার জানাজায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
পরিচ্ছন্ন ও সংগঠক হিসেবে পরিচিত আনিছুর রহমান লাকু বিএনপির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি রংপুর মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিক মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছিলেন।
আনিছুর রহমান লাকুর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক ও আমিনুল ইসলাম, রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম মিজু ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী ডনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
এছাড়া রংপুর জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, ওলামা দল, কৃষক দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ শোক জানিয়েছেন। পাশাপাশি রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরপিইউজে), বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকেও শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে।