সব সময় সব খানে


বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬

১৪ কার্তিক ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
১৪ কার্তিক ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

>> হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফাহিম ফয়সাল

>> মানুষের কল্যাণে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান লালমনিরহাট যুবদল নেতাদের

>> ভাঙ্গায় সাবেক চেয়ারম্যান লাভলুর অভিযোগের প্রতিবাদে প্রবাসী মিঠুর সংবাদ সম্মেলন

>> পেনসিলভানিয়ায় কোম্পানীগঞ্জ সোসাইটির নতুন কমিটি, সভাপতি রাকিব, সম্পাদক সোহাগ

>> মানুষের দোরগোড়ায় ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানোর উদ্যোগ পূবালী ব্যাংকের

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির।

>> গণশৌচাগার সংকটে লালমনিরহাট শহর, দুর্ভোগে নারী- শিশু-বয়স্করা

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির

>> শিক্ষকদের সম্মিলিতস্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: বাদাশিকস কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি জয়নুল আবেদীন

আপনি পড়ছেন : লালমনিরহাট

লালমনিরহাটে আখ চাষে নতুন সম্ভাবনা: চিনি কল চালু হলে কৃষকের মুখে হাসি


সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট জেলা ক্রসপন্ডেন্ট

eshomoy.com || 2025-08-25
লালমনিরহাটে আখ চাষে নতুন সম্ভাবনা: চিনি কল চালু হলে কৃষকের মুখে হাসি
কৃষক আবেদ আলী (৭০) একজন আখ চাষী

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় লালমনিরহাট জেলা তার উর্বর মাটি ও বৈচিত্র্যময় কৃষি উৎপাদনের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। এ জেলার কৃষকদের মধ্যে আখ চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। আখ থেকে গুড়, চিনি ও আখের রস উৎপাদন হওয়ায় এটি শুধু কৃষকদের জীবিকা নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম ভরসা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রংপুর অঞ্চলে আখ চাষে পতন লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৪ সালে যেখানে ৩৬,৫০০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে, কয়েক বছর আগেও সেখানে ৫০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আখ চাষ করা হতো। সুগার মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে এ পতন স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। তবে সরকার চিনি কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়ায় কৃষকরা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।

প্রতি হেক্টরে গড়ে ৫২ মেট্রিক টন আখ উৎপন্ন হয়, যা থেকে প্রায় ৪ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদন সম্ভব। তবে এ চাষে খরচও কম নয়—প্রতি হেক্টরে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। তবুও ন্যায্য মূল্য ও সঠিক বাজারব্যবস্থা থাকলে কৃষকরা লাভবান হতে পারেন।

লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা, আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলাগুলো আখ চাষের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। কৃষকেরা সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে আখের বীজ বপন করেন এবং ১০-১২ মাস পরে ফসল সংগ্রহ করেন। সঠিক সেচ, সার ও কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে ফলন ধরে রাখা হয়। সংগ্রহ করা আখ স্থানীয় গুড় কারখানায় পাঠানো হয়, যেখানে গুড় ও চিনি উৎপাদিত হয়।

কৃষক আবেদ আলী (৭০), যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আখ চাষ করে আসছেন, বলেন, “আমরা বংশীয়ভাবে আখ চাষ করে আসছি। এখনো আমরা নিয়মিতভাবে আখ চাষ করি। সরকার যদি সত্যিই চিনি মিলগুলো চালু করে, তাহলে এটা আমাদের জন্য আশীর্বাদ হবে।”

জেলা কৃষি উপ-পরিচালক ড. মোঃ সাইখুল আরিফিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, “সরকার চিনি কল চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কারণে আমরা কৃষকদের আখ চাষে আরও উৎসাহ দিচ্ছি। সামনের মৌসুমে আখের ব্যাপক চাহিদা দেখা যাবে।”

আখ চাষ কেবল কৃষকদের আয় বাড়ায় না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে। কৃষক, শ্রমিক, পরিবহন ব্যবসায়ী—সবাই এ খাত থেকে উপকৃত হয়। সঠিক প্রযুক্তি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বাজারজাতকরণ সুবিধা পেলে লালমনিরহাটে আখ চাষ আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।