উৎকৃষ্ট মানের ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করে সাড়া ফেলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা নাহিদ হাসান
এক দিকে রাসায়নিক সারের কৃত্রিম সলকট মূল্য বৃদ্ধি,রাসায়নিক সারের যুগে জমির উর্বরতা হ্রাস, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় ও মানবদেহে ক্ষতিকর প্রভাব,চাষের খরচ বৃদ্ধি নিয়ে যখন কৃষি বিশেষজ্ঞ ও মৃত্তিকা গবেষকরা উদ্বিগ্ন, ঠিক তখনই জয়পুরহাটের এক তরুণ উদ্যোক্তা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন জৈব সার উৎপাদনে করে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসাবে লাভজনক জৈবসার উৎপাদন করে।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের তরুণ উদ্যোক্তা নাহিদ ইসলাম নিজ উদ্যোগে ভার্মি কম্পোস্ট (জৈব সার) উৎপাদন করে কৃষি সমাজে সাড়া ফেলেছেন। বর্তমানে তার ৬টি প্লান্টে একসাথে প্রায় ১৮ টন উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার উৎপাদিত হচ্ছে।
নাহিদের তৈরি এই পরিবেশবান্ধব সার যেমন জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করছে, তেমনি স্থানীয় কৃষক ও বেকার যুবকদের জন্য তৈরি করেছে কর্মসংস্থানের সুযোগ।
কলাগাছ, কচুরিপানা, ডিমের খোসা ও গোবরসহ বিভিন্ন জৈব উপাদান পচিয়ে তৈরি করা হয় এই সার। পরবর্তীতে শুকানো ও প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে তা বাজারজাত করা হয়।
এছাড়া আফ্রিকান জাতের কেঁচো দিয়ে ও তৈরি হচ্ছে কেঁচো সার,এ কেঁচো দিনে রাতে সার কম্পোজিট করে আর এ সারের কোন দূরগন্ধ নেই তাই এমন সারের চাহিদা বেশি,আর কেঁচো বিক্রি করে ও হচ্ছে বাড়তি আয়।
ডিজিটাল যুগে ফেসবুকের মাধ্যমে ক্রেতারা সহজেই এই সার অর্ডার করছেন। বিশেষ করে ছাদ বাগানপ্রেমীদের মধ্যে এ জৈবসারের ব্যাপক চাহিদা দেখা দিয়েছে।
তবে উদ্যোক্তা নাহিদ হাসান কিছু প্রতিবন্ধকতার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন জৈব সার তৈরির পর প্রসেসিং লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া বেশ জটিল। এজন্য অনেক সময় বিলম্ব হয়। তবুও কৃষকদের চাহিদা মেটাতে স্ব-মান ঘোষিত হিসাবে নিয়মিত উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছি।
কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন কৃষিবিদ হারুন রশিদ বলেন ভার্মি কম্পোস্ট হচ্ছে ভবিষ্যৎ কৃষির অন্যতম সম্ভাবনাময় দিক।কালাই উপজেলা অনেক উদ্দোক্তা জৈব সার উৎপাদন করছে,তিনও আরো জানান কৃষি কর্মকর্তাগণ সব সময় মাঠ পর্যায়ে জৈব সাররে উৎপাদন ও ব্যবহারে পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছে ।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে এই সার ব্যবহার করে তারা ভালো ফল পাচ্ছেন। জমির উর্বরতা বাড়ছে, পাশাপাশি মাটির গঠনও উন্নত হচ্ছে।