শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের কারাগাঁও গ্রামে ফসলি জমি ও সরকারি খাস জমিতে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার মাধ্যমে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে সেজু আহম্মদ দীর্ঘদিন ধরে অবাধে ফসলী জমি কাটার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে এলাকার পরিবেশ ভারসাম্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ভেকু দিয়ে গভীরভাবে মাটি উত্তোলনের ফলে আশপাশের জমিগুলোর গঠন ভেঙে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে এসব জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শুধু তাই নয়, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেজু আহম্মদ রাতের আঁধারে সরকারি নদী সোমেশ্বরীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং তীব্র ভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে। নদী থেকে অপরিকল্পিত বালু তোলার কারণে তীরবর্তী বসতি, হুমকির মুখে পড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এতে করে অভিযুক্ত ব্যক্তি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তারা দাবি করেছেন, অবিলম্বে ফসলি জমিতে ভেকু চলাচল বন্ধ করা হোক এবং নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি জানান, "মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধে আমরা বেশ কয়েকবার মৌখিকভাবে নিষেধ করেছি। তবে অভিযান ছাড়া এই কর্মকাণ্ড বন্ধ করা সম্ভব নয়।"
পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, অব্যাহতভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।