প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পাহাড়ি ঢল ও বালির আগ্রাসন থেকে রক্ষা পেতে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদী পুনঃখনন অথবা বালুমহাল পুনরায় চালুর দাবিতে আবেদন করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা।
এ দাবিতে উপজেলার হলদীগ্রাম, ফাকরাবাদ, সন্ধ্যাকুড়া, তামাগাঁও, বনগাঁওসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা শেরপুরের জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, এসব গ্রামের মাঝখান দিয়ে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি বহন করে মহারশি নদী প্রবাহিত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পূর্বে মহারশি নদীতে বালুমহাল চালু থাকায় নিয়মতান্ত্রিকভাবে বালু উত্তোলন করা হতো। ফলে একদিকে বালু উত্তোলন হলেও অন্যদিকে নদীর নাব্যতা বজায় থাকত এবং নদীর তলদেশ গভীর হওয়ায় পাহাড়ি ঢলের পানি সহজেই প্রবাহিত হতে পারত।
তবে প্রায় দুই বছর ধরে বালুমহাল বন্ধ থাকায় নদীর বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর। ফলে বর্তমানে সামান্য বৃষ্টিতেই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আশপাশের বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে । পাশাপাশি পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতের সঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ বালু নদী তীরবর্তী ফসলি জমিতে ছড়িয়ে পড়ছে।
এতে কৃষিজমি বালিতে ঢেকে যাওয়ায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় কৃষকরা। একই সঙ্গে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ায় গবাদিপশু পালন ও পরিবারের জীবিকা নির্বাহও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও নদীর বালির আগ্রাসনে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি থেকে গ্রামগুলোকে রক্ষা করতে মহারশি নদীর পুনঃখনন অথবা নিয়মতান্ত্রিকভাবে বালুমহাল পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ লক্ষ্যে স্থানীয় গ্রামবাসীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক, শেরপুর বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত নদী খনন বা কার্যকর ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হলে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পাশাপাশি ফসলি জমি ও বসতবাড়িকে বালির আগ্রাসন থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।