শেরপুরের শ্রীবরদি উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের বিলভরট গ্রামে, নিজ বসত ঘড়ে ২০২০ সালে মারাত্মক জখম অবস্থায় নিহত হয় রানীশিমুল ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড এর শ্রমিক লীগ সভাপতি আব্দুর রহিম বানু।
মৃত্যুকালীন সময়ে আহত ও জখম অবস্থায় ভিক্টিম বানু মিয়া কে তার ছোট ছেলে হোসাইন জিজ্ঞাস করেন, কে তাকে আহত করিয়াছে তখন ঘাতক হিসাবে নিজ স্ত্রী ও একি এলাকার সুরুজ্জামান মোল্লার নাম বলে যান ভিক্টিম । সে সময়ে ভিক্টিমের জামাই মাসুদ সেই জবানবন্দী ভিডিও করে রেকর্ড করেন।
ভিক্টিমের বড় ছেলে রমজান সেই ভিডিও গোপন করেন। কারন মূল আসামী তার গর্ভধারিনী মা ,ও সে নিজেও জড়িত থাকার কারনে ৮ জন নির্দোষ ব্যাক্তির উপর মামলা চাপিয়ে ২০২০ সালে শ্রীবরদী থানায় মামলা দায়ের করেন । তাদের ফাসিয়ে দিয়ে তিনি প্রচার করেন ৮ জন ব্যাক্তির নাম তার বাবা মৃত্যুকালীন সময়ে বলে গেছেন, সেই ভিডিও তার কাছে সংরক্ষন আছে এই কথা দাবী করলেও সেই ভিডিও আজ প্রর্যন্ত কাউকেই দেখাতে পারেন নাই।
স্থানীয় লোকজন কে এই ভিডিও এর ব্যাপারে জিজ্ঞাস করিলে তারা বলেন স্বীকারক্তি মূলক ভিডিও তে বানু তার স্ত্রী ও সুরুজ্জামান মোল্লার কথা বলে গেছেন। অন্য কারো কথা বলেন নাই রমজান একজন প্রতারক, চিটার, ও সেই নিজেও এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত।
সে সময়ে বানুর ছোট ছেলে প্রকাশ্য স্বীকার করতেন এই হত্যাকান্ড তাদের পারিবারিক ভাবেই হয়েছে। এই হত্যাকান্ডের জন্য তার মা ও সুরুজ্জামান মোল্লা ও বড় ভাই রমজান দায়ী।
পরবর্তী ২০২৩ সালে ভিক্টিম বানুর জবানবন্দী ভিডিও ভাইরাল হলে বানু হত্যা মামলার নতুন মোড় নেয়। বানু মিয়ার ছোট ছেলে হোসাইন তার বাবার মৃত্যুকালীন জবান বন্দীর উপর ভিত্তি করে আপন গর্ভধারিনি মা রোকেয়া বেগম, বানুর বন্ধু সুরুজ্জামান মোল্লা, তার আপন ভাই রমজান, ( রমজান ২০২০ সালের বানু হত্যা মামলার বাদী থাকার পরেও ৩ নাম্বার আসামী হোন ) ও তার দুই চাচা আকরাম ও সঞ্চল এর নামে শেরপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে, শ্রীবরদী সি.আর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: হুমাইন কবির স্যার মৃত্যুকালীন বানুর জবানবন্দী দেখার পর এই মামলাকে বৈধতা দিয়ে, শ্রীবরদী আমলী আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট নুর- ই জাহিদকে এই মামলা আমলে নিয়ে শ্রীবরদি থানা কে এফ আই আর দায়ের পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। ন্যায় বিচারের জন্য ছেলে গর্ভধারিনী মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করিয়াছেন এই বিষয় টা তখন শেরপুর সদর কোর্টে আলোড়ন সৃষ্টি করে। মামলা আইন এর ধারা মোতাবেক পরিচালিত হচ্ছিল।
কিন্তু বাদী হোসাইন কবির এই মামলা করার পর, ২০২০ সালে তার আপন ভাই রমজান আলী বাদী হয়ে যে নির্দোষ ব্যাক্তিদের মামলায় ফাসিয়েছেন তাদের এই আশ্বাস দেন, তিনি সত্যের জন্য লড়াই করতাছেন এবং সে জন্য তিনি মা ও ভাই এর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার বাবার আত্নার শান্তির জন্য। এবং তাকে যেন সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করা হয় এসব কথা বলে নির্দোষ আসামী দের কাছে মোটা অংকের লক্ষ লক্ষ টাকা তিনি আদায় করে নেন।
২০২৩ সালে হোসাইন ভায়াডাংগা বাজারে মানববন্ধন করেন, এবং এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত তার গর্ভধারীনি মা রোকেয়া বেগম, সুরুজ্জামান মোল্লা ও বড় ভাই রমজান এর ফাশি দাবী করেন, এবং শ্রীবরদি উপজেলা প্রেসক্লাব এর সম্মানিত সাংবাদিক এর সামনে, তার বাবার মৃত্যুকালীন জবানবন্দি সবার সামনে পেশ করেন ও বলেন, আমার বাবার হত্যার ৭দিন আগে বাবা আমাকে শেরপুর থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন , আমার বাবা সব সময়ে আতংকে থাকতেন মা ও বড় ভাই রমজান এর ভয়ে ।
আমার বাবাকে হত্যার দিনে ও রাত্রে আমার মায়ের সংগ তুমুল ঝগড়া হয়। আমার বাবার হত্যার দুই দিন আগেও আমার বাবাকে হত্যার হুমকি প্রদান করেন বড় ভাই রমজান । আমার বড় ভাই ফার্নিচারের দোকান সহ বাড়ীর জমি লিখে নিতে চাইছিলেন, মা ও এক কাটা জমি লিখে নিতে চাইছিলেন, বাবা বাড়ী ভিটা লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের আক্রোশ আরো বেড়ে যায়।
তিনি আরো জানান তার বাবা পাহাড় থেকে দুই একটা ভেংগে যাওয়া গাছ নিয়ে আসতো এ গাছ নিয়ে বাগান মালিক সুরুজ্জামান মোল্লার সাথে তার বাবার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ। সুরুজ্জামান মোল্লা নিয়মিত আমার বড় ভাই রমজান এর কাছে আসতো, ও আমাদের পারিবারিক ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতো। আমার মা ও ভাই এর সাথে সুরুজ্জামান মোল্লার গভীর সম্পক ছিলো যা আমার বাবা মেনে নিতে পারতো না। সেদিন দিবাগত রাত ২ টার দিকে বাবাকে হত্যা করা হয় বাড়ীর উঠানে, তারপর সেখান থেকে তাকে হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে রুমের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন আশে পাশের প্রতিবেশীরা জিজ্ঞাস করেন, আমাদের বাড়ীতে এতো আনাগোনা কেন, তখন আমার মা তাদের বলেন আমার বাবার নাকি পেশার উঠেছে এই ভাবে তিনি ঘটনা ধামা চাপ দেন।
আমার বাবা কে হত্যার পর আমি সব গোপন তথ্য জেনে যায়, সব ফাশ করে দিবো এই ভেবে আমকেও মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। পরিবার এর সবাই আমাকে মানষিক ভাবে চাপে রাখেন, কারন আমার বাবা জখম হলে আমার পরিবার এর কেউ বাবার ধারের কাছে আসে নাই কেউ ধরেও নাই, কারো চোখে এক ফোটা পানিও ছিলো না। আমি বাবাকে ধরলে আমার সারা শরীল রক্তে ভিজে যায়, তখন আমার ভাই আমাক সহ ভিডিও করে রাখেন, আর বলেন আমি সব ফাশ করে দিলে এই ভিডিও দিয়ে আমাকে মামলায় জড়ানো হবে।
আমি সত্য কথা বলার জন্য আমাকে বাড়ী থেকে বের করে দেওয়া হয় আমি ৬ মাস বাসাই থাকতে পারি নাই। আমার কাঠের ফারনিচার এর দোকান বড় ভাই রমজান ভেংগে নিয়ে যায় আমি আতংকে ভয়ে এলাকার বাহিরে থাকি।
আরো অনেক তথ্য হোসাইন সাংবাদিক দের সামনে স্বীকার করেন । হোসাইন এসব স্বীকারক্তি সাংবাদিকেরা মোবাইলে রেকর্ড করে রাখেন। এবং যাচাই বাছাই করে হোসাইন এর মামলার সত্যতা পান, এবং তাকে অভয় দিয়ে এগিয়ে যেতে বলেন।
কিন্তু এসব তথ্য প্রকাশ করার পরেও, মৃত্যুকালীন জবানবন্দী থাকার পরেও বাদী হোসাইন লোভে পড়ে আসামী চিহ্নিত তার গর্ভধারিনী মা রোকেয়া বেগম, সহোদর ভাই রমজান ও সুরুজ্জামান মোল্লার সাথে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করেন।
এবং তার বাবার মৃত্যুকালীন জবানবন্দি কে অস্বীকার করে আসামী দের মামলা থেকে অব্যহতি দিতে নানা রকম কৌশল অবলম্বন করেন। এবং আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জশীট না দিয়ে ফাইনাল রিপোর্ট কোর্টে প্রেরন করেন। আসামীদের মামলা থেকে অব্যহতি দেন।
স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বানু খুব ভাল মানুষ ছিলেন তার স্ত্রীর পরক্রিয়ায় আসক্ত ছিলেন, পরক্রিয়ায় বাধা দিতে গেলে পারিবারিক ভাবেই বানু খুন হন, এই হত্যার সাথে বানুর স্ত্রী, বড় ছেলে রমজান ও সুরজ্জামান মোল্লা জড়িত। ছোট ছেলে হোসাইন ও এই হত্যার সাথে জড়িত থাকতে পারে।
এ ব্যাপারে বাদী হোসাইন এর সাথে কথা বলে জানতে পারি মামলার তদন্ত অফিসার আমিনুল ইসলাম তার কাছে দুই লক্ষ টাকা দাবী করেন, সে টাকা না দিতে পারাই, আসামী দের বিরুদ্ধে চার্জশীট না দিয়ে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে তাদের অব্যহতি দেয়া হয়েছে।
২০২০ সালের মামলার বাদী রমজান কে প্রশ্ন করা হয়, ভিডিওতে তার বাবা মৃত্যকালীন সময়ে তার মা ও সুরুজ্জামান নাম বলার পরেও, কেন সে তাদের নাম মামলার এজাহারে উল্লেখ করেননি? তখন রমজান এব্যাপারে কোন মন্তব্য করেতে রাযী হয় নাই তিনি এসব কথা এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন।
ভিক্টিম এর জামাই কে ভিডিও এর ব্যাপারে জিজ্ঞাস করিলে তিনি বলেন, ভিডিও সত্য এই ভিডিও আমি নিজেই করছি, মৃত্যুকালীন সময়ে আমার শ্বশুর সুরুজ্জামান মোল্লা ও বউ বলে আমার শাশুড়ি কেই ইংগিত করে গেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
রানীশিমুল ইউ,পি চেয়্যারমান বলেন, বানু আহত অবস্থায় নিজ মুখে ঘাতক এর নাম হিসাবে তার স্ত্রী ও সুরুজ্জামান মোল্লার নাম বলার পরেও কেন তাদের মামলা থেকে অব্যহতি দেয়া হলো, এই নিয়ে এলাকায় ধোয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন বানুর ছোট ছেলেকে ভাল মনে করছিলাম সে নিজেও তার বড় ভাই এর মত টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। প্রকৃত হত্যাকারী তাদের গর্ভধারিনী মা হওয়ার কারনে, নিরীহ লোক দের ফাশিয়ে ফায়দা লুটতে চাইছেন দুই ভাই রমজান ও হোসাইন। যেখানে গর্ভধারিনী মা আসামী, ছেলে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। সেখানে দফা রফা সহজ, মূল আসামী অব্যহতি তো পাবেই, কারন তারাই আসামী তারাই বাদী। এখানে ভিক্টিম বানুর ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি রাষ্টপক্ষের তদন্ত দাবী করেন তাহলে প্রকৃত আসামীরা বেড়িয়ে আসবে।
৭১ টিভির সাংবাদিক শাকিল মোরাদ, নয়াদিগন্তের সাংবাদিক মো: ফিরোজ, যায় যায় দিন এর সাংবাদিক রমেশ সরকার, হোসাইন স্বীকারুক্তি নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন করেছেন। হোসাইন প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছে যেনে তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন।তারা আরো বলে মৃত্যুকালীন জবানবন্দী থাকার পরেও কেমনে আসামীরা অবহ্যতি পায় সেটা ধারনার ও বাইরে।
স্থানীয় আশে পাশের গ্রামের সবাই এই বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা বলেছেন রমজান ও হোসাইন বাদী হয়ে রাষ্ট ও সমাজের কাছে প্রতারণা করেছেন প্রকৃত তারাই মূলহত্যাকারীর সহযোগী। কারন মৃত্যুকালে বানু তার স্ত্রী ও সুরুজ্জামানের কথা স্পস্ট ভাবে বলে গেছেন এতে কোন সন্দেহ নেই। তারা দাবী জানান প্রকৃত হত্যাকারী দের বিরুদ্ধে রাষ্টীয় তদন্ত হোক, তা না হলে ২০২০ সালের মামলার ভুক্তভোগীরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবে।
হোসাইন বাদী হয়ে যে মামলা করেছিলেন সেই মামলা ৫ জন সাক্ষী সাথে কথা বলে জানতে পারি, হোসাইন টাকার লোভে পড়ে সত্য কে মিথ্যা সাজানোর পায়তারা করছে, কিভাবে এতো বড় প্রমান থাকার পরেও আসামী অব্যহতি পায়। তারা এই হোসাইনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য রাষ্টের কাছে আর্জি জানিয়েছেন।