সব সময় সব খানে


বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬

১৪ কার্তিক ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
১৪ কার্তিক ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

>> হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফাহিম ফয়সাল

>> মানুষের কল্যাণে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান লালমনিরহাট যুবদল নেতাদের

>> ভাঙ্গায় সাবেক চেয়ারম্যান লাভলুর অভিযোগের প্রতিবাদে প্রবাসী মিঠুর সংবাদ সম্মেলন

>> পেনসিলভানিয়ায় কোম্পানীগঞ্জ সোসাইটির নতুন কমিটি, সভাপতি রাকিব, সম্পাদক সোহাগ

>> মানুষের দোরগোড়ায় ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানোর উদ্যোগ পূবালী ব্যাংকের

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির।

>> গণশৌচাগার সংকটে লালমনিরহাট শহর, দুর্ভোগে নারী- শিশু-বয়স্করা

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির

>> শিক্ষকদের সম্মিলিতস্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: বাদাশিকস কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি জয়নুল আবেদীন

আপনি পড়ছেন : ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহে ফেসবুকে ভুয়া আইডির ছড়াছড়ি, চলছে অপপ্রচার পূর্ব-১


মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি।

eshomoy.com || 2025-05-02
ময়মনসিংহে ফেসবুকে ভুয়া আইডির ছড়াছড়ি, চলছে অপপ্রচার পূর্ব-১

  • ময়মনসিংহে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বিভিন্ন নামে ফেসবুকে ভুয়া আইডির ছড়াছড়ি। গত ৮ মাসে শতাধিক ভুয়া আইডি তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে বিএনপি নেতাকর্মী, সরকারি চাকরি জীবি, নাগরিক সাংবাদিক, শিক্ষক, আ.মী সমর্থক এবং সাধারণ মানুষদের বিরুদ্ধে মিথ্যা গুজব ও তথ্য ছড়িয়ে হয়রানির অভিযোগের কোন শেষ নেই। 

  • বিভিন্ন ছদ্মনামে আইডি ব্যবহার করে এসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ভুয়া আইডি থেকে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যা সাধারণ মানুষদের বিভ্রান্ত করছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও চালানো হচ্ছে অপপ্রচার। ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কিছু সার্থক লম্পট স্বৈরাচারী দেশ বিরোধী ব্যক্তিরা আত্মগোপনে থেকে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। শুধু রাজনৈতিক নেতারাই নয়,সরকারি চাকুরি জীবি, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষদেরও টার্গেট করা হচ্ছে। এসব আইডির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে যা এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। আবার অনেকেই টার্গেটকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখে ম্যাসেঞ্জারে বিকাশ নাম্বার দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

এসব ভুয়া আইডির মাধ্যমে ময়মনসিংহ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশ্যক ড. মো. ইদ্রিস খান, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অমিয় রায় ও মোশাররফ হোসেন। আরটিভির সাংবাদিক খোকন, সাংবাদিক কামাল, ৭১টিভির সাংবাদিক বাবুল হোসেন, প্রতিদিনের কাগজের প্রধান সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিক, ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া পলাশ, সাবেক ডিবির ওসি শহিদুল ইসলাম, কোতোয়ালি থানার বর্তমান ওসি, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক সুমি, সাংবাদিক লাভলু, সাংবাদিক সোহেল সাজ্জাদ, সাংবাদিক মজিবুর রহমান মিন্টু, সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন, সাংবাদিক মোমিনুল হক মানিক, সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্য, এনটিভির ক্যামেরা পার্ছন মাসুদ রানা, নাগরিক নেতা ইউসুফ আলী, সাংবাদিক বদরুল আমিন, সাংবাদিক রেজাউল রেজা, সাংবাদিক আবু জাফর, সাংবাদিক নীহার, সাংবাদিক তসলিমা রত্না, সাংবাদিক মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, সাংবাদিক শিবলী সাদিক খান, সাংবাদিক পপি, সাংবাদিক ফায়াদ। ভুক্তভোগী লুৎফর রহমান জীবন, সিটি করপোরেশন স্বাস্থ্য সহকারী সাইফুল ইসলাম সাজু। সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহানীসহ অনেকের বিরুদ্ধে ভুয়া আইডি থেকে মিথ্যা গুজব ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও এসব ভুয়া আইডি থেকে অপপ্রচারে বাদ যায়নি ময়মনসিংহের গণমাধ্যম কর্মীরাও। তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া আইডি থেকে চলছে একের পর এক মিথ্যা, গুজব ও অপপ্রচার। 

তবে এ ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানায় একাধিক ভুয়া আইডির বিরুদ্ধে জিডি করা হয়েছে। ভুয়া আইডি থেকে অপপ্রচারের শিকার ভুক্তভোগীরা জানান, ভুয়া আইডি ব্যবহারকারীরা কে' কেউ জানেন না এবং তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ, গুজব এবং অপমানজনক মন্তব্য পোস্ট করছে। কোনো প্রকার প্রমাণ ছাড়াই বিভিন্ন সাংবাদিক ও নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং ব্যক্তিগত আচরণের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

অন্যদিকে, ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা মনে করেন, সাংবাদিকদের হয়রানি করে তাদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে তারা প্রকৃত সত্য জনসম্মুখে তুলে ধরতে না পারে। এই ধরণের অপপ্রচারের ফলে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে ময়মনসিংহে রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করতে পারে। 

প্রশাসনের দায়িত্ব হবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা এবং এই ধরনের ভুয়া আইডির ব্যবহার বন্ধ করা। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। তবে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে যে, ফেসবুকেসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার বন্ধ করতে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। ভুয়া আইডিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

সাইবার অপরাধ (Cyber Crime) এমন একটি অপরাধ যা  কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সাথে সম্পর্কিত। সাইবার অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করেছেন "আধুনিক টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করে, অপরাধমূলক অভিপ্রায়ে ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে সম্মানহানি, কিংবা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি, এ ধরনের অপরাধ একটি জাতির নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বাস্থ্য হুমকি হতে পারে। আইনগত বা আইনবহির্ভূতভেবে বিশেষ তথ্যসমূহ বাধাপ্রাপ্ত বা প্রকাশিত হলে গোপনীয়তার লঙ্ঘন ঘটে। 

মতামত : সাইবার জগতে অত্যাধুনিক এবং সম্ভবত সবচেয়ে জটিল একটি সমস্যা হলো সাইবার ক্রাইম বা সাইবার অপরাধ। বিভিন্ন আইন ও অপরাধ সংক্রান্ত বইপত্রে সাইবার ক্রাইমকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। সাইবার অপরাধসংক্রান্ত কয়েকটি উলেস্নখযোগ্য উদাহরণ হলো- কম্পিউটার হ্যাকিং, মোবাইল ফোন হ্যাকিং, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, এটিএম বুথ হ্যাকিং, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, বিকাশ-নগদ অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং ইত্যাদি। অর্থাৎ 'যে সব অপরাধ সংঘটিত করতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কম্পিউটার বা ইন্টারনেট ব্যবহৃত হয়ে থাকে, সাধারণভাবে সেগুলোই সাইবার অপরাধ বা সাইবার ক্রাইম হিসেবে পরিগণিত হয়' এবং কোনো অপরাধমূলক কাজ যেখানে কম্পিউটার বা ইন্টারনেটকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় কিংবা অপরাধের জন্য কম্পিউটার বা ইন্টারনেটকে টার্গেট করা হয়। অথবা কম্পিউটার বা ইন্টারনেট দ্বারা অপরাধ করার পরবর্তীতে তার সাপেক্ষে অন্য কোনো অপরাধ করা হয়। এ সব অপরাধই সাইবার ক্রাইমের অন্তর্ভুক্ত হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি আইন : ইংল্যান্ড বিশ্বে প্রথম সাইবার আইন প্রণেতা হিসেবে তৈরি করে কম্পিউটার মিসইউজ অ্যাক্ট ১৯৯০। ই-অপরাধ প্রতিরোধে ২০০৮ সালে জাতীয় ই-অপরাধ ইউনিটও গঠন করা হয়। ভারতেও তৈরি হয় তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০০। বাংলাদেশে ২০০৬ সালে তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ আইন তৈরি হয় এবং পরে এ আইন সংশোধন করা হয়।এ আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছা করে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারে বা যার মাধ্যমে মানহানি ঘটে, আইন-শৃঙ্খলা ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়া হয়, তাহলে তার এই কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কোনো ব্যক্তি এ ধরনের অপরাধ করলে তিনি অনধিক ১০ বছর কারাদন্ডে দন্ডিত হতে পারেন এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হতে পারেন।

আমাদের দেশে আইন থাকলেও আইনি অব্যবস্থাপনা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। বর্তমানে আমাদের দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। তার সঙ্গে পালস্না দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধও। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগেরই তথ্যপ্রযুক্তি আইন সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। তাই বুঝে হোক বা না বুঝে হোক সাইবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। যারা সাইবার অপরাধের শিকার, তারাও সঠিক আইনি ব্যবস্থা নিতে জানেন না। আবার অনেকে থানায় গেলেও ফল পান না। কারণ অনেক পুলিশ কর্মকর্তাই জানেন না এ ধরনের অভিযোগ পেলে তার ঠিক কী করা উচিত। তাই এই আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে আইনের প্রচার বাড়াতে হবে ও প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে আপনাকে খুব সচেতন হতে হবে। যেমন আপনি যদি ই-মেইল, ফেসবুক কিংবা কোনো অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার বিষয়গুলো ঠিকভাবে সেটিং করতে পারেন দুনিয়ার যত বড় ক্রিমিনাল হোক আপনার অ্যাকউন্টের ক্ষতি করতে পারবে না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানানো যাচ্ছে, সাইবার ক্রাইম বা অপরাধের মতো ভয়াবহ বিষয়টির উপর সুদৃষ্টি রেখে কম্পিউটার বা ইন্টারনেট গ্রাহকদের নিরাপত্তার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এডঃ সোহরাব হোসেন ভুইয়া (মিঠু) জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বলতেই আমরা এখন প্রায় সবাই ফেসবুককেই বুঝি। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফেসবুকের জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী। তবে একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এর অপব্যবহারও। বাড়ছে ফেক অ্যাকাউন্টের সংখ্যাও। অন্যের ছবি ও নাম ব্যবহার করে ব্যবহার করা হচ্ছে অ্যাকাউন্ট। ফলে বিপদে পড়ছেন অনেকেই। যদি আপনার ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করেও অন্য কেউ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে তাহলে কী করবেন? সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে।

বাংলাদেশ পুলিশের জনস্বার্থে প্রচার করা একটি নির্দেশনায় এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। সেখানে বলা আছে প্রথমেই আসল পরিচয়ধারী ব্যক্তি এবং তার সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধুদের ওই ফেক অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতে হবে। কোনো ফেক ফেসবুক অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করতে হলে যা করণীয়-

১. প্রথমে ফেক আইডিটি ওপেন করতে হবে। তারপর ওই পেজের ম্যাসেজ বক্সের পাশে তিনটি ডট (...) চিহ্নিত আইকনে ক্লিক করে ফাইন্ড সাপোর্ট অর রিপোর্ট প্রোফাইল এ ক্লিক করতে হবে।

২. এরপর প্লিজ সিলেক্ট এ প্রবলেম টু কন্টিনিউ শিরোনামে একটি অপশন আসলে সেখানে বিভিন্ন ক্যাটাগরি থেকে প্রিটেন্ডিং টু বি সামওয়ান সিলেক্ট করতে হবে।

৩. ভুক্তভোগী ব্যক্তি নিজে রিপোর্ট করলে ‘হু আর দে প্রিটেন্ডিং টু বি?’ অপশনে ‘মি’ নির্বাচন করে রিপোর্ট করা সম্পন্ন করতে হবে।

৪. ফেসবুক বন্ধুরা রিপোর্ট করলে ‘হু আর দে প্রিটেন্ডিং টু বি?’ অপশনে ‘ফ্রেন্ড’ ক্লিক করলে হুইচ ফ্রেন্ড? এর স্থলে আসল অ্যাকাউন্টধারী ভুক্তভোগী ফেসবুক বন্ধুর প্রোফাইলটি নির্বাচন করে রিপোর্ট করা সম্পন্ন করতে হবে।

সাইবার অপরাধীরা নিজেকে যতই লুকানোর চেষ্টা করুক না কেন, পরিচয় ঠিকই বের হয়ে যাচ্ছে। সাইবার জগৎ সংশ্লিষ্ট সংগঠন, বিশ্লেষক এবং এসব অপরাধের অভিযোগকারীদের সঙ্গে কাজ করা আইনজীবীরা বলছেন, যারা এ ধরনের অপরাধে বেশি জড়িয়ে পড়ছে তারা অনেকেই এ অপরাধ সংশ্লিষ্ট আইন, নজরদারির কৌশল ও শাস্তি সম্পর্কে জানেন না। অপরাধ যেখানে বসেই করুক না কেন পুলিশের বিশেষ বাহিনী তার অবস্থান যে জানতে পারবে সে বিষয়েও অজ্ঞ অনেক অপরাধী। এ কারণে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত আইন ও শাস্তির প্রচার বাড়ালে এ ধরনের ঘটনা অনেকটা কমে আসবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরাও।

সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছেন তানভীর হাসান জোহা। তিনি মনে করেন অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত না করা গেলে অপরাধ কমবে না। তিনি বলেন, সাধারণত কোনও অপরাধ সংঘটিত হলে এবং অভিযোগ পেলে আমাদের এখানে স্যোশাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান জানার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ সম্ভব হয় না। এই অপরাধীরা পরে আরও বড় সাইবার অপরাধী হওয়ার চেষ্টা চালায়।

ভারতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আমার পরিচিত একজনের বেঙ্গালুরু থেকে একটি ল্যাপটপ হারিয়ে গিয়েছিল। এক বছর পর দেশটির পুলিশ সেটা উদ্ধার করে। এর জন্য আমার বন্ধুটিকে কোনও তদ্বিরও করতে হয়নি। এখানে সাধারণের মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসতে হবে। তবেই অপরাধীরা সাইবার অপরাধ থেকে দূরে থাকবে।

সিসিএ ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজী মুস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, অনলাইনে যারা অপরাধ করছেন তাদের অনেকের সাইবার আইন বিষয়ে জানাশোনা কম। তাই তারা মনে করেন অপরাধ করে পার পেয়ে যাবেন। যদি আইন এবং এর বাস্তবায়নের বিষয়ে তাদের জানা থাকে তাহলে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেই অপরাধ করার সাহস পাবে না।

অনলাইন ব্যবহারকারীদের অনেকেই এ সংক্রান্ত আইন জানে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য হলো, মানুষ আইন জানবে এবং কী শাস্তি হতে পারে তা জেনে অপরাধ করা থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি, জরুরি সব আইন হয়। কিন্তু সেসব নিয়ে কোনও সচেতনতামূলক কার্যক্রম থাকে না।

প্রচার নিয়ে কোনও উদ্যোগ নিয়েছেন কিনা প্রশ্নে মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা তরুণ সমাজ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করছি। কিন্তু মূল কাজটি সরকারের জায়গা থেকে হতে হবে।’

অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিতের বিষয়ে ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, অনেক অভিযোগের ক্ষেত্রে আপস করতে হয়। কারণ ভিকটিম চায় না বিষয়গুলো প্রকাশ হোক। কারও সঙ্গে অনলাইনে পরিচয়ের পর ছবি বিনিময়ের পর যখন ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মুখোমুখি হচ্ছে তখন সামাজিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভেবে অফিসিয়াল অভিযোগ না করে মীমাংসাই বেছে নিতে চায় তারা।

তিনি বলেন, অপরাধ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ আইন বিষয়ে বেশিরভাগেরই স্বচ্ছ ধারণা না থাকা। অনেক অপরাধী ফেক আইডি ব্যবহার করে নারীদের হয়রানি করে আর ভাবে তাকে কেউ চিনবে না। যারা এসব করছে তারা সাইবার জগত জানে, পর্নোগ্রাফির ব্যবহার জানে, কীভাবে একজনের জীবন দুর্বিষহ করে দিতে হবে সেটাও জানে। কিন্তু আইনে কী আছে তা জানে না। ফলে এই জানানোর বিষয়টি নিয়ে কাজ করা জরুরি।