ময়মনসিংহে শহীদ হয়েছে আমাদের একজন ভাই। এই ময়মনসিংহ ৪১ জন শহীদের জেলা। এ জেলায় কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নাই, ফলে ময়মনসিংহের ভাইয়েরা যায় উত্তরা—গাজীপুর গার্মেন্টসে কাজ করতে, সেই গার্মেন্টসের ভইয়েরা বোনেরা তারা রাজপথে নেমে এসেছিলো গতবছর জুলাই মাসে, যখন দেখেছিলো সাধারণ ছাত্রদের উপর গুলি চালানো হচ্ছে, নেজ্জ অধিকারের জন্য রাস্তায় নামলে সরকার গুলি চালাচ্ছে। আমার সেই গার্মেন্টসের ভাই, আমার সেই রিকশা উলা ভাই, আমার সেই পথশিশু ভাই এই গণঅভ্যুত্থান রাজপথে নেমে জীবন দিয়েছিল। তাদের এই জীবনধানের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি।
সোমবার (২৮ জুলাই) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হলের মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে এসব বক্তব্য দেন তিনি।
তিনি আরও বক্তব্যে বলেন, আমরা জানি ময়মনসিংহ একটি বিভাগীয় শহর হওয়া সত্যেও ময়মনসিংহ অবকাঠামো ভাবে উন্নয়ন হয়নাই, পরিবেশ বিপর্যয়ের সমস্যা রয়েছে এই ব্রম্মপুত্র নদীকে মেরে ফেলা হয়েছে। বিগত সরকার শুধু মানুষ হত্যা করে নাই, গণতন্ত্রকেই হত্যা করে নাই, আমাদের প্রাণ প্রকৃতিকেও হত্যা করে ফেলেছে। আমরা চাই পরিবেশ বান্ধব উন্নয়ন করতে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘যে-কেউ শহীদ ও আহত পরিবারের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এ ছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রবিন প্রমুখ।
‘জুলাই পদযাত্রা বাস্তবায়ন কমিটি, ময়মনসিংহ’-এর প্রধান বাস্তবায়নকারী ছিলেন মো. ইকরাম এলাহী খান। সহ-বাস্তবায়নকারীদের মধ্যে ছিলেন অ্যাডভোকেট এটিএম মাহবুব আলম, মাহমুদুল হাসান সোহেল মোজাম্মেল, ফুয়াদ খানসহ এনসিপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা।
এদিকে পদযাত্রা ও সমাবেশ ঘিরে নগরজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং ভবনের ছাদে অবস্থান নেন পুলিশন ও জেলা গোয়েন্দার সদস্যরা।