গাজীপুরে সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলায় নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের জানাজায় ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রশাসনের কাউকে দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ ও সংবাদ কর্মীদের মধ্যে বিরূপ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সন্ত্রাসী হামলায় নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (০৮ আগষ্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তুহিনের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে দাদার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ফুলবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম জানান, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন, আমি বিভিন্ন ভাবে খোঁজ খবর রেখেছি, বিষয়টি এভাবে দেখছেন কেন। আপনি ফুলবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিকদের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, একজন সাংবাদিককে সন্ত্রাসীরা নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে সে হিসেবে আপনার উপস্থিতি প্রয়োজন মনে করেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও সাংবাদিক এর নাম পত্রিকার নাম জিগ্যেস করেন। নাম পরিচয় দিলে তিনি ধন্যবাদ দিয়ে কথা শেষ করেন।
এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক মো. হালিম বলেছেন, এ বিষয়ে আমাকে ক্ষোদ না করাই ভালো ভাই, পরে তিনি সালাম জানিয়ে কথা শেষ করেন।
বিষয়টি নিয়ে নিহত সাংবাদিক তুহিনের প্রতিষ্ঠান প্রতিদিনের কাগজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খাইরুল আলম রফিক বলেন, সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে উত্তাল। ইতিমধ্যে প্রশাসন চারজনকে গ্রেফতার করেছে, যে সাংবাদিক হত্যা কান্ডের শিকার হয়েছে, তার বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়াতে।
তিনি বলেন, গাজীপুরে তার জানাজায় প্রশাসনসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ফুলবাড়িয়াতে থানার ওসিসহ ও ইউএনও সাহেবসহ তাকে দেখতেও আসেনি, জানাজায় আসেনি, এটি অত্যান্ত দুঃখ জনক। সাংবাদিকদের প্রতি তাদের কোনো ভালোবাসা নেই। এটি বাস্তব তারা নিজেরাই প্রমাণ করে দিলেন।
চেয়ারম্যান ট্রাস্টি বোর্ড, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম-বিএমএসএফ এর সাংবাদিক নেতা আহমেদ আবু জাফর বলেন, ফুলবাড়িয়া উপজেলার ইউএনও প্রেসক্লাবের সভাপতি হবে কিভাবে কি কারণে এটা হচ্ছে প্রথম প্রশ্ন? ইউএনও সাহেব একটা প্রেসক্লাবের সভাপতি এটাতো সাংবাদিকদের কোনো চিন্তা চেতনা গঠনতন্ত্র কোনো দর্শন কোনো নীতিমালার মাঝেই পড়ে না।
তিনি আরও বলেন, ইউএনও সাহেব একটা প্রেসক্লাবের সভাপতি থাকবে এটা সিস্টেমের বাইরের জিনিস, যেহেতু তিনি ওখানকার প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে ইউএনও দায়িত্ব পালন করছেন সে ক্ষেত্রে তার ওখানে যাওয়াটা উচিত কিংবা বাধ্যতা মূলক মনে করি। যেহেতু এতবড় একটা আলোচিত ঘটনা তুহিনের বাড়ি ফুলবাড়িয়াতে। আর ওখানকার প্রেসক্লাবের সভাপতিও তিনি। ইউএনও সাহেব যদি এমনটাই হয়ে থাকে তাহলে তার যাওয়া উচিত ছিলো।
নিহত সাংবাদিকের নাম মো. আসাদুজ্জামান তুহিন (৩২)। তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ৬নং ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামালের ছেলে। তিনি জাতীয় দৈনিক ‘প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকার গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।