ভিক্ষুকের রেখে যাওয়া শেষ আমানত মোঃ আনোয়ার হোসেনের নামে আত্মসাৎ এর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সাটুরিয়া প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ। ইসময়
eshomoy.com || 2025-06-28 18:19
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ফুকুরহাটি ইউনিয়নের চামারখাই গ্রামের ভিক্ষুক মৃত আমেলা বেগমের শেষ আমানত ৮০ হাজার টাকা তার নাতির নামে রেখেছিলেন চামারখাই কৃষি সমিতির প্রধান মোঃ আনোয়ার হোসোনের কাছে। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।
মোঃ আনোয়ার হোসেন সাটুরিয়া উপজেলার পূর্ব পাড়তিল্লী এলাকার মৃত বিবাদ আলীর ছেলে।
ভিক্ষুক আমেলা বেগম টাকা রাখিয়া মৃত্যু বরণ করেন এবং তার শেষ ইচ্ছা গ্রামবাসীর কাছে বলে গেছেন আমার মৃত্যুর পরে যেনো এই টাকা দিয়ে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
ভিক্ষুক আমেলা বেগম মারা গেছেন প্রায় তিন বছর হয়ে গেছে কিন্তু তার রেখে যাওয়া শেষ আমানত প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনোভাবেই ফেরত পাচ্ছেন না সমিতির প্রধান আনোয়ার হোসেন এর কাছ থেকে ভুক্তভোগীরা।
ভিক্ষুক আমেলা বেগমের নাতি মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন আমার নানীর ৮০ হাজার টাকা আনোয়ারদের সমিতিতে আমার নামে রাখছিলাম এখন সেই টাকা চাইতে গেলে টাকা না দিয়ে দিনের পর দিন ঘোরাচ্ছে।
এলাকাবাসী সমিতির প্রধান মোঃ আনোয়ার হোসেনের কাছে টাকা চাইতে গেলে তিনি নানান রকম তালবাহানা করেন। এলাকাবাসী কোন উপায় না পেয়ে ২৭ মার্চ ২০২৫ ইং মানিকগঞ্জ এসপি অফিসে মোঃ আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ভিক্ষুকের টাকা আদায় করার একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
আইরমারা গ্রামের মোঃ জসীম উদ্দিন বলেন ভিক্ষুক আমেলা আমার দাদী তার দুইটা ছেলে ছিল তারা মারা গিয়েছেন পরে উনি অনেক কষ্টে মানুষের কাছে চাইয়া কিছু টাকা রাখছিল। এই টাকা উনি আনোয়ারদের সমিতিতে রাখে সে মারা যাওয়ার আগে এলাকাবাসীকে বলে গিয়েছিলেন আমার মৃত্যুর পরে যেনো এই টাকা দিয়ে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে দেওয়া হয় । জসীম উদ্দীন আরো বলেন উনি মারা যাওয়ার পরে আমি এলাকা বাসীকে ডাকলাম ডাকার পরে তারা তার কাছে বল্লো সে বলে আজ না কাল এইভাবে শুধু ঘোরানোর তালেই আছে। উনি মারা গেছে তাও প্রায় তিন বছর হয়ে গেলো এ পর্যন্ত টাকা গুলো দিল না টাকা চাইলেই তারা অন্যান্য কথা বলে।
স্থানীয়দের কাছে আরো জানা যায় চারখাই কৃষি সমতির নাম করে অত্র এলাকার অনেক সাধারন মানুষের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে হাতিয়ে নিয়েছে এই সমিতির প্রধান মোঃ আনোয়ার হোসেন সহ সকল সদস্যরা এবং এই বিষয় নিয়ে আরো অনেক বিচার শালিস ও করা হয়েছে তারা কোনভাবেই এই সাধারণ মানুষের টাকা গুলো ফিরিয়ে দিচ্ছে না এমন অভিযোগ ও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ।
আইরমারা গ্রামের মোঃ সাহাব আলী জানান আমি কৃষক মানুষ আমাকে বেশি লাভের লোভ দেখিয়ে আমার কাছে থেকে তিন লক্ষ টাকা নিয়েছিলো পরে আমাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দেয়। এখন আর বাকি আড়াই লক্ষ টাকা দিচ্ছে না টাকা চাইতে গেলে নানা রকম তালবাহানা করেন এবং হুমকি ধমকি ও দেন।
চামারখাই গ্রামের ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী আফজাল হোসেন বলেন চামারখাই কৃষক সমিতির সভাপতি আনোয়ারের কাছে আমি দুই লক্ষ টাকা জামানত রাখি পরে আমি অনেক কষ্টে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা উঠিয়েছি বাকি ষাট হাজার টাকা পাবো আমি টাকার জন্য গেলে সে আমাকে টাকা না দিয়ে হুমকি ধামকি দেয় এবং বলে তুমি পারলে আমার কাছ থেকে টাকা উঠিয়ে নিও। আমিও প্রতিবন্ধী আমার হাতের সমস্যা আমার স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী তার পায়ের সমস্যা আমরা অনেক কষ্টের দিন যাপন করি। এই টাকার উপর আমরা নির্ভর করে চলি। এই টাকা নেওয়ার পরে আমাদের অনেক কষ্টে দিন পার হচ্ছে। আমি যে তার কাছে টাকা রাখছি তার সম্পূর্ণ ডকুমেন্টস আমার হাতে জমা আছে।
সমিতির প্রধান মোঃ আনোয়ার হোসেন এর কাছে এই বিষয়ে বক্তব্য চাইলে তিনি বলেন আমার নামে অভিযোগ হয়েছে তা আমি জানি এই বিষয়ে কোর্টে গিয়ে আমি বক্তব্য দেবো।
সাটুরিয়া থানার এস আই মোঃ সুলতান বলেন এসপি অফিসের অভিযোগের মাধ্যমে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম উনাদের সাথে কথা বলেছি ওনাদের তিন মাসের একটি ডেট দেওয়া হয়েছিল তিন মাস অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরেও তারা টাকা দিচ্ছে না এবং একটি অভিযোগের মাধ্যমে আমাদের আর কোন কিছু করার থাকে না।