সন্তানকে কটাক্ষ না করে তার কাঁধ শক্তিশালী করুন: বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসকে হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তালহা হাসান,হাবিপ্রবি প্রতিনিধি
eshomoy.com || 2024-11-08 ১১.২০ am
"পিতা যখন বৃদ্ধ হয়ে যায় তখন সন্তানের কাঁধে হাত রেখে তাকে পথ চলতে হয়। সুতরাং সন্তানকে কটাক্ষ না করে তার কাঁধ যেনো শক্তিশালী হয় সেটার জন্য আপনারা পদক্ষেপ নিন" বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস কে উদ্দেশ্য করে এমন মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ সমম্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) বিকাল ৩.৩০ মিনিটে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) নূর হোসেন হল মাঠ প্রাঙ্গণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সমম্বয়ক সার্জিস আলম, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি আল মেহরাজ শাহরিয়ার মিঠুন, কেন্দ্রীয় সহ-সমম্বয়ক তরিকুল ইসলাম সহ দিনাজপুর জেলা ও হাবিপ্রবির কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, "৫ আগষ্টের পরে একটা জেনারেশন কনফ্লিক্ট হচ্ছে। এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি দীর্ঘ রাজনীতির অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন অনেকেই তরুণ প্রজন্মের এ কৃতিত্বকে অবজ্ঞার সাথে দেখছেন। গত পড়শুদিন বিএনপির প্রথিতযশা রাজনীতিবিদ মির্জা আব্বাসকে বলতে শুনেছি পিতার আগে সন্তান হাটলে দেশ নাকি ধ্বংস হয়ে যায়। আমরা বিনয়ের সাথে বলতে চাই পিতা যখন গত ১৬ বছর তার রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলো, পিতাকে যখন রাস্তায় নামতে দেওয়া হচ্ছিলোনা তখন এই সন্তানরাই গুলির সামনে বুক পেতে দিয়েছিলো। আবু সাইদ, মুগ্ধ যখন বুক পেতে দিয়েছিলো তখন দেশ ধ্বংস হয়ে যায়নি বরং পিতার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো।" তিনি আরও বলেন "আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই আমরা জেনারেশন কনফ্লিক্ট চাইনা। আমাদের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের অভিজ্ঞতা এবং তরুণ প্রজন্মের ভয়ডরহীন মনোভাব কাজে লাগিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।" এসময় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে তিনি বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, "গত ১৫ বছর বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া তার চিকিৎসার অধিকার পর্যন্ত পায়নি। কিন্তু ছাত্ররা যখন রাস্তায় নেমে এসেছে তখন আপনাদের দলের যিনি প্রধান তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থাও হয়েছে। সুতরাং আপনাদের উদ্দেশ্য করে বলতে চাই অগ্রজদের সাথে অনুজদের যে পার্থক্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে সেই পার্থক্যকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।" ছাত্রদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন "ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ ব্যাতীত কোন দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি আমরা চাইনা। পূর্বের মতো করে যারাই পুণরায় ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি চালু করতে চাইবে তাদেরকে আমরা প্রতিহত করবো। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।"
এর আগে আয়োজিত এ ছাত্র সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমম্বয়ক সার্জিস আলম। তিনি বলেন, "একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষুদ্র সময়ের জন্য নয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে কয়েক যুগ এগিয়ে দিতে পারে। আমি সবার কাছে অনুরোধ করবো আমরা যেকোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হইনা কেনো, বিশ্ববিদ্যালয় কোন দলীয় রাজনীতি চর্চার জায়গা হতে পারেনা। বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো করে আলাদা জায়গায় রাখতে হবে।" এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি কাউকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তুলতে হয় বা নেতৃত্ব তৈরি করতে হয় তাহলে প্রতিবছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। আমরা দেখেছি বিগত বছরগুলোতে যারাই রাজনৈতিক দলের ছাত্রনেতা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন তাদের উদ্দেশ্য ছিলো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে খুশি রাখা। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য হতে পারে না। আমরা যদি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেতৃত্ব চাই তাহলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিয়েই সেই নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে।"
সমাবেশে উপস্থিত হওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সমম্বয়করা।