পৃথিবীতে সবচেয়ে শ্রুতিমধুর ও পবিত্র শব্দের নাম ‘মা’। এক অক্ষরের একটি ছোট্ট শব্দ ‘মা’। সন্তানের সঙ্গে যার নাড়ির সম্পর্ক। হৃদয়স্পর্শী এ শব্দের সঙ্গে অন্য কোনো শব্দের তুলনা হয় না। ‘মা’ শব্দটি দিয়েই প্রত্যেক শিশুর জীবন শুরু হয়। মানব শিশু মায়ের কারণেই সুশীতল ধরাতলের সুন্দর মুখখানি দেখতে পায়।
'মা' এমন মনো বিশেষজ্ঞ যে আমাদের চেহারার দিকে তাকালে বুজতে পারে তার সন্তানের কি হয়েছে এবং সে কি চায়৷ 'মা' বেশি উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও মায়ের কাছ থেকেই শুরু হয় আমাদের প্রথম হাতে খড়ি। মায়ের মুখেই প্রথম শুনে শিখেছি অ, আ, ক, খ, আলিফ, বা, এই অক্ষর গুলো।
আমি যদি আমার মায়ের কথা বলি, সে কোন ডাক্তার নয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়া সেকালে সম্পন্ন করেছিলো বটে কিন্তু তার ৬/৭ বছর বয়সে 'মা' মারা যায়। 'মা' মরা মেয়েরাই বা কতটুকুই অগ্রসর হতে পারে শিক্ষাজীবনে৷ কিন্তু আমি দেখেছি 'মা' তার সন্তানের কখন কি ঔষধ লাগবে। কোন ওষুধটা কখন খেতে হবে, তার সন্তানের অবস্থা এখন কেমন আছে। এখন ঔষধের ডোজ কি পরিমাণ হবে সেটা তার বেশ ভালোই রপ্ত ছিলো।
ঈদে বাড়িতে জ্বর নিয়ে গিয়েছিলাম। সর্দি-কাশি মাথা ব্যাথা যখন মায়ের সামনে উচ্চারণ করলাম। 'মা' তখন তার ঔষধের বক্স থেকে ফেক্সো ১২০এম জি ট্যাবলেট হাতে দিয়ে বলে, এই নে? এইটা খেয়ে ঘুম দে। বিপরীতে বলছিলাম কি এইটা? নাম কি? উত্তরে 'মা' বলে জানি না৷ তবে এইটা আমাকে অনেক আগে ডাক্তার দিছিলো৷ খাইয়া দেখছি ভালো হইছে। তাই আরেক পাতা আইনা রাখছি। তুইও খা ভালো হয়ে যাবি। ঔষধের পাতা হাতে নিয়ে দেখি ফেক্সো ১২০এম জি ট্যাবলেট। মা আসলেই কি নাম জানিতেন! আল্লাহ তাদের কি পরিমাণ শক্তি আর সামর্থ্য দিয়েছে সন্তানের কল্যানে। 'মা' মানেই শান্তির পরশ। বিপদের বন্ধু, দুঃখের সঙ্গী পৃথিবীতে মা-ই একমাত্র।
'মা' এর জন্যই আমরা পৃথিবীর মুখ দেখি। সন্তান প্রসবকালীন ব্যথা ২০টি হাড়ভাঙা ব্যথার সমান। যা পৃথিবীর কষ্টকর ব্যথাগুলোর একটি। প্রসবব্যথার সঙ্গে আর কোনো ব্যথার তুলনা করা যায় না। সে মায়ের সাথে আমরা কয়জনই বা ভালো ব্যবহার করছি। কয়জনই বা 'মা' কে সময় দেই! আজকে সকালে ঘুম থেকে উঠে ফেসবুকের পুরো টাইমলাইন জুড়ে 'মা' নিয়ে পোস্ট৷ সবাই দেখছি 'মা'কে ভীষণ ভালোবাসেন। কিন্তু এই ভালবাসা কি শুধু ফেসবুকেই সীমাবদ্ধ??
আজ 'মা' দিবস তাই এখন শুধু ফেসবুক পোস্ট, লাইক এবং কমেন্টের জন্য শুধু ভালবাসা প্রকাশ। মোবাইল হাতে থাকা অবস্থায় যদি মা এসে বলেন ‘বাবা’ একটু এই কাজটা করে দে না, উত্তরে তখনই জোড় আওয়াজে বেশি জ্বালিয়ো না তো, অথচ মাকে নিয়ে লেখা পোস্টের, উত্তর দিচ্ছি হ্যাঁ আমার মা আমার সব, আমার মা আমার পৃথিবী। আমি আমার মাকে খুব ভালোবাসি, আমাদের সবার উচিত মাকে সেভা করা এবং ভালোবাসা, মআরও কত কি লিখেছি আমরা, কত ভালোবাসা মায়ের প্রতি, কিন্তু মায়ের ডাকে সাড়া নেই।
হ্যাঁ এখন আমাদের ভালোবাসাটা এইভাবেই ফেসবুকেরর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে, আমরা আজ এতটাই ফেসবুকে মগ্ন হয়ে গেছি যে যার জন্য এই লেখা, যার জন্য এতকিছু তাকেই মনে নেই। তার কোন কথায় পাত্তা দিচ্ছি না একবারের বেশি দুবার বললে বিপরীতে তাকে ধমক দিচ্ছি। কেন আমরা কি পারি না, আজকের দিনটাই ফেসবুকে না থেকে, দিনটা মায়ের সঙ্গে কাটাতে, আমরা বলতে পারি না, মা আপনি তো রোজ রান্না করেন, আজ না হয় আমি রান্না করি, বলতে কি পারিনা চলো মা আজ তোমাকে নিয়ে ঘুরতে যাই। তাই আমাদের সবার ভাবা উচিত মায়ের প্রতি আমাদের ভালোবাসাটা শুধু যেন ফেসবুকের মধ্যে আটকে না থাকে।
সন্তান যতই দূরে থাকুক না কেন,তার সন্তানের কিছু হলে মা ঠিকই বুজতে পারে। মা এমন এক ডেডিকেটেড পার্সন যে তার সন্তানের জন্য সব কিছু সেক্রিফাইস করে দিতে পারে। সত্যিই মায়ের মতো আপনজন এ পৃথিবীতে আর কেউ নেই। মা করুণাময়ী ও স্নেহের খনি। মায়ের ভালোবাসার ন্যায় অকৃত্রিম ভালোবাসা ও স্নেহ পৃথিবীতে দুর্লভ। মায়ের স্নেহ-মমতা যে কী অসীম তা কল্পনাতীত। মায়ের ভালোবাসা স্বর্গীয় ও স্বতঃস্ফূর্ত।'মা'শত প্রতিকূলতার দিনগুলোতেও যখন আমার খামখেয়ালি আবদারগুলো মিটিয়ে দাও তখন আমার মন তোমার প্রতি শরতের আকাশের সাদা মেঘের মতো কৃতজ্ঞতা, দোয়া আর ভালোবাসায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আমার জীবনে বলতে গেলে পাওয়া না পাওয়া সবকিছুই তোমার অবদান বৈকি। স্কুল, কলেজ অনার্স এবং নার্সিং পড়তে একমাত্র তোমার সাধনাতেই সম্ভব হয়েছিল, এসএসসি /এইচএসসি অত ভালো রেজাল্ট যেমন তোমার অবদান। তুমি সেদিন আমার জন্য অনেক কান্না করেছিলে মা তোমাকে আমার চাই জীবনে ছোট-বড় সব উত্থান-পতনে, রাগে-দুঃখে, অভিমান-আনন্দে।