সব সময় সব খানে


শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬

১৫ কার্তিক ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
১৫ কার্তিক ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

>> হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফাহিম ফয়সাল

>> মানুষের কল্যাণে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান লালমনিরহাট যুবদল নেতাদের

>> ভাঙ্গায় সাবেক চেয়ারম্যান লাভলুর অভিযোগের প্রতিবাদে প্রবাসী মিঠুর সংবাদ সম্মেলন

>> পেনসিলভানিয়ায় কোম্পানীগঞ্জ সোসাইটির নতুন কমিটি, সভাপতি রাকিব, সম্পাদক সোহাগ

>> মানুষের দোরগোড়ায় ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানোর উদ্যোগ পূবালী ব্যাংকের

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির।

>> গণশৌচাগার সংকটে লালমনিরহাট শহর, দুর্ভোগে নারী- শিশু-বয়স্করা

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির

>> শিক্ষকদের সম্মিলিতস্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: বাদাশিকস কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি জয়নুল আবেদীন

আপনি পড়ছেন : শিক্ষা

সীমান্তের এপার-ওপার


রবিউল আলম

eshomoy.com || 2024-09-07
সীমান্তের এপার-ওপার

প্রশ্ন করলো দাদা ভাই,

পড়াশোনা কই তোমার?

নিব কেমনে আমি দায়,

সীমান্তের এপার-ওপার!

পয়তাল্লিশ বছরেও আলোচনার তুঙ্গে, কত কল্পনা-জল্পনা, কত গোল বৈঠক, কত পতাকা বৈঠক (রূপক অর্থে), কত প্রচেষ্টার পরেও যথোপযুক্ত মিলছে না সুরাহা। প্রশাসনের অদলবদল, এক যায়, আরেক আসে। সীমান্তের এপার ওপারের লোকগুলো হাসে। সন্তুষ্ট রাখাটাই ছিল অমোঘ বিহিতক। ‘দাদা আর সীমান্তের’ কথা শুনে কি মনে হলো আফিমের নেশায় বুঁদ হয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ইস্যু নিয়ে বয়ান দিতে কিংবা পড়ার টেবিলে বসে অলৌকিক শক্তি নিয়ে লেখা শুভ্রেন্দু শেখর গায়েনের কাব্য গ্রন্থ ‘সীমান্তের এপার ওপার’ নিয়ে এসেছি?_একদমই না! আপনার আমার অস্তিত্ব সংকটের কথা বলতে এসেছি, বলতে এসেছি আপনার আমার ৪৫ বছরের অমীমাংসিত প্রতিষ্ঠানের কথা!

৫৩ বছরের অর্জিত সার্বভৌমত্ব স্বাধীন দেশে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্বাধীনতার পর ৪৫ বছর অতিবাহিত হওয়া প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়- “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া! ওহ না, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়! সরি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ! আন্তরিকভাবে দুঃখিত, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ঝিনাইদহ! ইশ্, ক্ষমা চাওয়ার শব্দগুলো ফুরিয়ে যাচ্ছে তারপরও খুশি রাখতে পারলাম না। দিয়ে দিলাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ!” ঠিক আছে না? এবার খুশি তো সীমান্তের এপার ওপার? 

মূলত একদিকে কুষ্টিয়া জেলার শান্তিডাঙ্গা অন্যদিকে ঝিনাইদহ জেলার দুলালপুর এই দু'টি এলাকা নিয়েই এই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। প্রতিষ্ঠাকালীন বোধহয় স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফকে প্রয়োজন ছিল। স্যার থাকলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মতো দু'জেলায় সূক্ষ্মভাবে ম্যাপিং করতে পারতো, তাই না? ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করে কুষ্টিয়ায়, আবাসিক হলগুলোতে অবস্থান করে ঝিনাইদহে। এই যেন অনন্য বৈচিত্র্যময় সীমান্তের এপার-ওপার। তবে শিক্ষার্থীদের কাছে অধিক পরিচিত লাভ করেছে ‘কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং প্রফেশনাল সিভিতে দেওয়া হয় ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।’ 

শেখ রাসেল হলের এক শিক্ষার্থী গল্পের মাধ্যমে উৎকণ্ঠে বলে ফেললেন , ‘প্রবাসী এক ভাই নিয়মিত রাতে কাউন্সিল করার জন্য কল দেয়, কোথায় যায়, কী করি, কখন বের হয়, কোথায় অবস্থান করি ইত্যাদি ওনার নখদর্পনে। প্রশ্ন করতে পারেন প্রবাস থেকে কিভাবে সম্ভব? হ্যাঁ, ডিজিটাল যুগে গুগল ম্যাপে অসম্ভব বলতে কিছু নাই। ভাই রাতে কল দেয়, রুমে শুয়ে কথা বলি, কোন এক সময় যে নেটওয়ার্ক ট্রেকিং করে বললো- ‘তুমি মিয়া এত রাতে ঝিনাইদহ অবস্থান করে কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসে আছো বলে কেন দিলে মিথ্যা আশ্বাস?’ ভাই কি জানে সীমান্তের ওপার-এপার মোর বসবাস? ভাইকে সান্ত্বনা দেওয়ার নিমিত্তে একখানা পত্র লিখতে বসে উন্মুক্ত গল্পটা পাঠকদের উপহার দিতে সক্ষম হয়েছি।’

সীমান্তের ওপার-এপার আবাসিক হলে অবস্থান করাটা ক্যাম্পাস জীবনে উপভোগ্য ও গৌরবের মনে হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় সংকটে ভোগছে শিক্ষার্থীরা। বেশ ক'টদিন  আগে এক বন্ধুকে কল দিয়েছিলাম, কই? __ ‘ঝিনাইদহে’। কেন? কী জন্য গিয়েছিস? __‘আরে বলিনি বন্ধু ঝুট, বঙ্গবন্ধু হলে তো আছি’, রসাত্মক সুরে বলছিল, ‘হলটা ঝিনাইদহে না’? যুক্তিতর্কে তো হেরে গেলাম, এভাবে জিতে গেলো দুই জেলা, এখনও প্রহর কাটেনি আমাদের অস্তিত্ব সংকটের সমাধানের বেলা!

মজার ব্যাপার হচ্ছে সাদ্দাম হলের আবাসিক এক বন্ধু গর্বের সহিত বলে, আমরা কুষ্টিয়াতে থাকি, কুষ্টিয়াতে ক্লাস করি। তারা কেন বলে হয়তো আঁচ করতে পারলেন। তবে সীমান্তটা ঠিক কর্কট ক্রান্তি রেখার মতো সাদ্দাম হলকেই বিভক্ত করেছে কি-না অভিজ্ঞরাই হয়তো ভালো জানেন।

ক্যাম্পাস সংলগ্ন শেখ পাড়া বাজারে এক প্রবীণ মামার সাথে অদূর পড়ন্ত বিকেলে আলাপচারিতা হচ্ছিল, তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে বলেই দিলো- “বড় মাদ্রাসা করবো কইয়া আমাদেরকে তুইলা দিচ্ছিলো, বালির ডেইল আর জঙ্গলে ছেয়ে গেছিলুম, এহেনে গোরস্থানও ছিলো। কত আত্মীয় স্বজন শায়িত আছে বাবা! কুষ্টিয়া ঝিনাইদহের লোককে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাদেরও হক আছে না? শুনছিলুম মূলত তৎকালীন দুই জেলার এমপি গোসসা করে বলেই প্রতিষ্ঠানটি মাঝখাইনে দেলো।”

মঞ্জুরী কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশে’ নামে ১৯৮০ সালে কুষ্টিয়ায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নামের সাদৃশ্য রয়েছে এমন অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা যাবে না বিধান থাকলেও অন্যত্রে ‘বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে আরেকটা নামকরণ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রশাসনিক কার্যক্রমে কিংবা ক্যালেন্ডারে এখনও ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ’ লিখাটা কি দুই সীমান্তের মন রক্ষার্থে? খুশির খবর কী জানেন? মাঝেমধ্যে প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকতে গিয়ে খালি ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’ উপস্থাপন করেন। অতপর অস্তিত্ব সংকটে শুধু শিক্ষার্থীরাই না বরং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও!