পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নজিরবিহীন এক মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে একটি মসজিদ কমিটি। প্রথমবারের মতো প্রবীণ মুয়াজ্জিনের জন্য অবসরকালীন এককালীন সম্মানী ও মাসিক পেনশন চালু করেছে উপজেলার নীলগঞ্জ মাতব্বর বাড়ি জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটি।
শনিবার (৫ জুলাই) আসরের নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবীণ মুয়াজ্জিন মো. ইসমাইল পাহলানের অবসরজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর এই মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ইভান মাতব্বর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা প্রবাসী মো. সামসুল আলম মাতব্বর, উপদেষ্টা মো. কামারুজ্জামান শহীদ মাতব্বর, মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. আবদুল খালেক মিয়া, নীলগঞ্জ ইউনিয়ন ইমাম সমিতির সভাপতি ও পাখিমাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, হাফেজ মাওলানা মো. সিদ্দিকুর রহমানসহ এলাকার বিশিষ্টজনরা।
অনুষ্ঠানে মুয়াজ্জিন ইসমাইল পাহলানকে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে এককালীন ২৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ, নতুন পোশাক এবং পার্শ্ববর্তী সলিমপুর জিরোপয়েন্ট জামে মসজিদের পক্ষ থেকে একটি জায়নামাজ ও তাসবিহ প্রদান করা হয়। একইসাথে মসজিদ কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মুয়াজ্জিন সাহেবকে আমৃত্যু প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে অবসর ভাতা প্রদান করা হবে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. ইভান মাতব্বর বলেন, “মুয়াজ্জিন মুহাম্মদ ইসমাইল পাহলান দীর্ঘ ৩০ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে এই মসজিদে খেদমত করেছেন। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের এমন বিদায়ের সময় খালি হাতে চলে যাওয়া আমাদের সমাজের এক ব্যথা-বিধুর বাস্তবতা। আমরা সেটাই ভাঙতে চেয়েছি। এই উদ্যোগ একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
এ সময় মসজিদ কমিটির অন্যান্য সদস্য মো. সোহাগ মাতব্বর, মো. রিমন মাতব্বর, মো. সোহেল মিয়া, মো. হাচন মল্লিকসহ স্থানীয় ইমাম-মুয়াজ্জিন, মুসল্লি এবং গন্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এই উদ্যোগ এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের আশা, দেশের অন্যান্য মসজিদগুলোও এধরনের সম্মানজনক বিদায় এবং পেনশন প্রথা চালু করে একটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।