পটুয়াখালীর মহিপুর উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের ধোলাই মার্কেট এলাকায় বেড়িবাঁধের ঢালে বন বিভাগের সৃজিত গাছ কেটে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)–এর কিছু অসাধু কর্মকর্তার মদদেই গাছ কেটে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপকূলের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে সুরক্ষার জন্য নির্মিত বেড়িবাঁধের ঢালে বন বিভাগ বহু বছর আগে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করে। কিন্তু সম্প্রতি ওই এলাকার কয়েকটি গাছ কেটে সেখানে দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে একদিকে বাঁধের ঢালের মাটি ক্ষয় হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উপকূল রক্ষার প্রকল্প।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, প্রভাবশালী রাকিব হাওলাদার, রবিউল মোল্লা, আ. জলিল আকন, মহিম হাওলাদার ও আ. রশিদ হাওলাদার অন্তত পাঁচ–ছয়টি গাছ কেটে সেখানে দোকানঘর তুলছেন। পরবর্তীতে এসব ঘর ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বন বিভাগ ও পাউবোকে জানানো হলেও অদৃশ্য কারণে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা উপকূলের মানুষ সব সময় ঝড়–বন্যার ঝুঁকি নিয়ে থাকি। সরকার যে গাছ লাগিয়ে আমাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে, সেই গাছ কেটে দোকানঘর তোলা খুবই দুঃখজনক ও বিপজ্জনক।”
বিষয়টি নিয়ে গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা আব্দুল রাজ্জাক বলেন, “দোকানঘর তোলার কাজে আমরা বাঁধা দিয়েছি, কিন্তু তারা কোনো কথাই শুনছে না।”
পটুয়াখালী বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। সরেজমিনে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ্ আলম বলেন, “বিষয়টি আমরা শুনেছি। সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করব। যদি দখলের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে উপকূল রক্ষার জন্য নেওয়া প্রকল্প মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়ে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।