সব সময় সব খানে


শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬

১৫ কার্তিক ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
১৫ কার্তিক ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

>> হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফাহিম ফয়সাল

>> মানুষের কল্যাণে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান লালমনিরহাট যুবদল নেতাদের

>> ভাঙ্গায় সাবেক চেয়ারম্যান লাভলুর অভিযোগের প্রতিবাদে প্রবাসী মিঠুর সংবাদ সম্মেলন

>> পেনসিলভানিয়ায় কোম্পানীগঞ্জ সোসাইটির নতুন কমিটি, সভাপতি রাকিব, সম্পাদক সোহাগ

>> মানুষের দোরগোড়ায় ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানোর উদ্যোগ পূবালী ব্যাংকের

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির।

>> গণশৌচাগার সংকটে লালমনিরহাট শহর, দুর্ভোগে নারী- শিশু-বয়স্করা

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির

>> শিক্ষকদের সম্মিলিতস্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: বাদাশিকস কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি জয়নুল আবেদীন

আপনি পড়ছেন : ঝালকাঠি

প্রিয় নেতার মৃত্যুতে আজও কাঁদে নলছিটিবাসী


মশিউর রহমান রাসেল,ঝালকাঠি প্রতিনিধি।।

eshomoy.com || 2025-02-01
প্রিয় নেতার মৃত্যুতে আজও কাঁদে নলছিটিবাসী


“নেতৃত্বের আসনে থেকে যারা জনতার কথা ভাবে তাদের জন্য জনগনের ভালোবাসা আমরন এমনই একজন নলছিটির শাহীন তালুকদার"


 

অকৃত্রিম দেশপ্রেম ছিল যার আপাদমস্তক যিনি ছিলেন একজন জনবান্ধন জনপ্রতিনিধি। গণমানুষের ভালোবাসা যাকে কাছে টানতো যে মানুষটি জনগণের ভোটে বারবার নির্বাচিত হয়েছেন। দলের নেতাকর্মীদের কাছে যিনি ছিলেন আশা ও ভরসার আবাসস্থল। বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের রাজপথের অকুতোভয় দুঃসাহসী যোদ্ধা হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। মামলা হামলা জেল জুলুম কোনকিছুই তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তিনি ফ্যাসিবাদের দোসরদের কাছে একটি আতংকের তিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের রনাঙ্গনের যোদ্ধা। কাক ডাকা ভোর থেকে রাত অবধি জনগণের সমস্যা যাকে পীড়িত করতো তিনি ছিলেন ঝালকাঠির নলছিটির প্রায়াত জননেতা নজরুল ইসলাম শাহীন তালুকদার।  


 এই মহান মানুষটি ২রা ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তার চলে যাওয়া কে এখনও স্থানীয় নাগরিকরা মেনে নিতে পারেননি তাকে মনে রেখে আজ অশ্রুঝরায় এলাকার সাধারন মানুষ। এই মানুষটির আজ দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ঝালকাঠির নলছিটির মানুষ তাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে আজও।


জানা যায় নজরুল ইসলাম শাহীন তালুকদার, ১৯৮৫ সালে সুবিদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়। পরে তিনি ১৯৮৭ সালে এসএসসি পাশ করে নলছিটি  ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হয়। নলছিটি কলেজে থাকাকালীন সময়ে  কলেজ শাখার ছাত্রদলের সদস্য হয়। এরপর তিনি বরিশাল বিএম কলেজে দীর্ঘ সময় ছাত্রদলের রাজনীতির সম্পৃক্ত হয়ে নেতৃত্ব দেন বিএম কলেজ ছাত্রদলের। কলেজ জীবনেই তিনি ছাত্র নেতা হিসেবে কুড়িয়েছেন সুনাম। এরপরে ১৯৯১ সালে সুবিদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১৯৯৩ সালে ইউনিয়ন বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়।  ২০০৩ সালে সুবিদপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। চেয়ারম্যান হওয়ার পর তিনি এলাকার মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করে জনসেবায় এগিয়ে যান। নেতাকর্মীদের  সাথে নিবিড় যোগাযোগ থাকার কারণে বিএনপি তাকে সুবিদপুর ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব দেয়। এ দায়িত্ব পেয়ে তিনি জনসেবা ও দল গুছিয়ে নিয়ে জনতার কাছাকাছি গিয়ে মিশে জনগণের কাছে একজন নিবেদিত প্রাণ নেতা হিসেবে পরিচিত পান। সেই থেকে তিনি আমরন 

কাজ করেন দলের পক্ষে। 


জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্ব হয়ে ওঠেন শাহীন তালুকদার এর কাল। যার কারনে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর দলীয়ভাবে একাধিক মামলার আসামি করা হয় তাকে।  সুবিদপুর ইউনিয়নে আকাশ ছোয়া জনপ্রিয়তার কারনে আওয়ামী লীগের সকল ষড়যন্ত্র তাকে দমাতে পারেননি। ২০০৯ সালে তিনি আবার পুনরায় সুবিদ পুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে চমক সৃষ্টি করেন। এরপর ২০১০ সালে তিনি নলছিটি উপজেলা বিএনপি'র সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।  জনপ্রিয় এই নেতার  গনজোয়ার সৃষ্টি হয় দলের মধ্যে পরবর্তী কাউন্সিলে জেলা বিএনপির সদস্য পদ ও উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হিসেবেও নির্বাচিত হন।


স্বৈরাচার সরকারে নেতারা নলছিটিতে টার্গেট করে করে একের পর এক তার বিরুদ্ধে মামলা দিতে থাকে। ঐ সময়ে তার বিরুদ্ধে মোট ১২ টি মামলা হয়। এ মামলা মোকদ্দমার ঘানি মাথায় নিয়ে ২০২২ সালে ২ ফেব্রুয়ারী হঠাৎ তিনি সকল জনগনকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। 


স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলেন নজরুল ইসলাম শাহীন তালুকদারের পুরো পরিবারটি বিএনপি পরিবার। স্থানীয় গণমানুষের প্রত্যাশা নজরুল শাহীন তালুকদার'র স্থলাভিষিক্ত হিসেবে যেন তার পরিবার থেকে কেউ দলের হাল ধরেন আগলে রাখেন সুবিদপুর ইউনিয়নের সাধারন জনগনকে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের প্রিয় নেতার শূন্যতা পূরনে তার পরিবারের কাউকে যেন সুবিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃত্বে রাখা হয়। তাতে দল ও জনগন উভয়ই স্বস্তি পাবেন খুজে পাবেন প্রিয় নেতার অস্তিত্ব।  

শাহীন তালুকদারের মৃত্যুর পরে সুবিদপুর ইউনিয়নে চরম নেতৃত্ব সংকটে ভুগছেন বিএনপি তাই জনগনের আশা ও প্রত্যাশা তার পরিবারেই এমনটাই মনে করছে স্থানীয়রা।