কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় ‘বাম পাশের ল্যান্ডিং গিয়ার’ অর্থাৎ একটি চাকা খুলে পড়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের। তবে সাহসিকতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে পাইলট ক্যাপ্টেন জামিল বিল্লাহ প্রথম চেষ্টাতেই বিমানটি নিরাপদে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন অভিজ্ঞ ক্রু সদস্যরা।
দুপুর ২টা ১৯ মিনিটে বিমানটি ঢাকার আকাশে দৃশ্যমান হওয়ার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) রুম থেকে পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি কী রানওয়ে ১৪-তে অবতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করছেন? উত্তরে ক্যাপ্টেন জামিল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “অ্যাফার্ম।”
এরপর এটিসি থেকে জানানো হয়, “রানওয়ে ১৪ অবতরণের জন্য প্রস্তুত আছে, আপনি অবতরণ করতে পারেন।” মাত্র ৯০ সেকেন্ড পর, দুপুর ২টা ২২ মিনিটে বিমানটি সফলভাবে অবতরণ করে।
অবতরণের সময় রানওয়ের পাশে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত ছিলেন। ফ্লাইটটি সম্পূর্ণ থামার পর ক্যাপ্টেন জামিল বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমরা নিরাপদে অবতরণ করেছি। কন্ট্রোল টাওয়ারকে অনেক ধন্যবাদ, আপনাদের সহযোগিতা প্রশংসনীয়।”
এটিসি থেকে আরও একাধিকবার নিশ্চিত করা হয় বিমানের অবস্থা স্বাভাবিক কিনা। প্রতিবারই ক্যাপ্টেন জামিল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “এভ্রিথিং ইজ অ্যাবসোলুটলি ফাইন।”
পাইলট আরও অনুরোধ করেন, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এটিসিকেও তার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাতে। এটিসি জানায়, তার বার্তা যথাযথ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হবে।
বিমান নিরাপদে নামার পর উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা “আলহামদুলিল্লাহ” ধ্বনিতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ও করতালি দেন।
ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা জানান, সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে পাইলট কিছুক্ষণ আকাশে চক্কর দিয়ে জ্বালানি খরচ করে ঝুঁকি কমায়। তবে ক্যাপ্টেন জামিল সাহসিকতার সঙ্গে প্রথম চেষ্টাতেই অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সফলভাবে বাস্তবায়ন করেন তিনি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানায়, ক্যাপ্টেন জামিল বিল্লাহর রয়েছে ৮,০০০ ঘণ্টার ফ্লাইং অভিজ্ঞতা। তার অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতায় যাত্রীরা নিরাপদে ফিরেছেন।
অবতরণের পর যাত্রীরা পাইলট ও ক্রুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বিমানের জরুরি ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন।
এ ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ ক্যাপ্টেন এনাম তালুকদারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।