বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি চলতি বছরের মাঝামাঝি অর্থাৎ জুলাই-আগস্টে নির্বাচন দাবি করলেও প্রশ্ন উঠেছে, এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন হলে দলটি কতটা প্রস্তুত? নির্বাচনের জন্য বিএনপি কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেটি নিয়েও চলছে আলোচনা।
বিএনপি নেতারা জানান, তাদের প্রস্তুতি আগেই শুরু হয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে যারা মনোনয়ন পেয়েছিলেন, তারা ইতোমধ্যেই নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় হয়ে গণসংযোগ শুরু করেছেন। দলের সহযোগী সংগঠনগুলো থেকে উঠে আসা নেতারাও এবারের নির্বাচনে প্রাধান্য পাবেন বলে জানিয়েছে বিএনপি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমাদের প্রার্থীরা এলাকায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তাদের গাইড করা হয়েছে। এটি নির্বাচনী প্রস্তুতিরই অংশ।”
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সেলিমা রহমান জানান, “নির্বাচন নিয়ে আমাদের একটি ছক আঁকা আছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন হতে পারে। তবে নেতাকর্মীরা প্রস্তুত।”
চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, “২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছিলেন। এবারও তাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে।”
বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দল থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা দল পুনর্গঠন এবং জনসংযোগে ব্যস্ত। বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ থেকে শুরু করে শীতবস্ত্র প্রদানসহ নানাভাবে জনগণের পাশে দাঁড়াচ্ছেন নেতারা।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “যে কোনো সময় নির্বাচনের জন্য বিএনপি প্রস্তুত। তারিখ ঘোষণা হলেই আনুষ্ঠানিক মনোনয়নে যাবো। এর মধ্যেই জনমত গঠনের কাজ চলছে।”
২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে অংশ নিয়েছিল। তবে এবার জামায়াতসহ কোনো দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে দলটি। বরং ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রার্থীদের বেশিরভাগকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।
তবে সুনির্দিষ্ট এলাকায় আন্দোলনের সহযাত্রী অন্য দলের নেতাদের ছাড় দেওয়া হতে পারে। গত বছর ২২ অক্টোবর সমমনা দলগুলোর ছয় নেতার নির্বাচনি এলাকায় সহায়তা করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।
স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, “দল গোছানোর কার্যক্রম চলছে। যারা এলাকায় জনপ্রিয়, তাদের বিষয়ে স্টাডি করা হচ্ছে। দলীয় সিদ্ধান্তেই সব চূড়ান্ত হবে।”
বিএনপির নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, “নির্বাচনের জন্য বিএনপির আলাদা প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। আমাদের বড় শক্তি হলো জনগণের সহানুভূতি। আমরা দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ এবং জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের অঙ্গীকারে এগোচ্ছি।”
সব মিলিয়ে, বিএনপি মাঠ পর্যায়ের তৎপরতা জোরদার করলেও নির্বাচনের সময় নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাদের প্রস্তুতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি দেখার অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।