রাজধানীর আশপাশের এলাকায় যোগাযোগে এবার যুক্ত হচ্ছে ঢাকা সাবওয়ে বা পাতাল রেল প্রকল্প। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রথম চারটি রুটের বিস্তারিত পরিকল্পনাও শেষ।
এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে যানজটের নগরীতে স্বস্তি ফিরবে বলে আশ্বাস সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের। তবে এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও আট বছর। আর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করেই এমন প্রকল্প বাস্তবায়নের তাগিদ দেন ঢাকার দুই মেয়র আতিকুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস।
যানজট নিরসনে নানা প্রকল্প হাতে নিলেও কিছুই যেন কাজে আসছে না। প্রতিদিন এ যন্ত্রণায় ভুগতে থাকা নগরবাসীর কাছে দূরপ্রান্তে আলোর রেখা মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে আর বিআরটির মতো প্রকল্প। তবে এবার সেই পালে হাওয়া দিল নতুন প্রকল্প ঢাকা সাবওয়ে।
২৯ মার্চ (মঙ্গলবার) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ঢাকা সাবওয়ে নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রকল্পের ড্রাফট ফাইনাল রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে রুট ‘এ’ কেরানীগঞ্জ ঝিলমিল প্রজেক্ট থেকে টঙ্গি রেলজংশন, রুট ‘বি’ গাবতলী থেকে ভোলাবো, রুট ‘এস’ কেরানীগঞ্জ থেকে সোনাপুর এবং রুট ‘টি’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নারায়ণগঞ্জ। এ চারটি রুট হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে।
দুপুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ঢাকায় সাবওয়ে নির্মাণের সম্ভব্যতা সমীক্ষা শীর্ষক প্রকল্পের খসড়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর মতামত গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের ১৪০ টি বসবাসের অযোগ্য শহরের মধ্যে ঢাকা ১৩৭ তম। আমার মনে হয়, এটা মেয়র সাহেবরা জানেন এবং এটা মাথায় রেখেই ঢাকাকে নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রথম চারটির কাজ শেষ হতে সময় লাগবে আট বছর। অপরিকল্পিত ও জনবহুল এ নগরের চলাচলে স্বস্তি এ সাবওয়ে প্রকল্পের মাধ্যমেই ফিরবে।
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে অপরিকল্পিত একটি শহর ঢাকা। প্ল্যান ছাড়াই এ শহর গড়ে উঠেছে। এ সিটির এখন যে অবস্থা, সাবওয়ে আমাদের করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। পদ্মা যে করতে পারে, সাবওয়েও সে করতে পারে।