বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি আন্দোলনে অংশগ্রহণ করলেও নাশকতার কোনো মদদ দেয়নি—বরং সরকারই নাশকতার পেছনে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি কখনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা করেনি। তার মতে, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রমাণিত হয়েছে। কারফিউ জারির পরেও আন্দোলন থামেনি। এখন সাধারণ মানুষও আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের পাশাপাশি সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। সরকার যদি পদত্যাগ করে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা না করে, তবে এই আন্দোলন চলতেই থাকবে।
মির্জা ফখরুল দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে বিএনপি ও অন্যান্য দলের অন্তত ২ হাজার নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালিয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ করে কারফিউ জারি করেছে এবং আক্রান্ত ও নিহতদের প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করেনি। সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া তথ্য বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি অফিস 'ক্রাইম সিন' ঘোষণা করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান নামক তছনছ করেছে। ফখরুল বলেন, "সরকার দেশের মূল সমস্যাগুলো থেকে জনদৃষ্টি সরাতে পরিকল্পিতভাবে এসব পদক্ষেপ নিয়েছে। যদি সরকার স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করত, তাহলে পরিস্থিতি এমন হতো না।"
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল তার বিবৃতিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়েছেন এবং তাদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন। তিনি আরও বলেন, "কোটা বিরোধী আন্দোলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।"