লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, স্বৈরাচারের পতনের পর এখন সময় এসেছে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ও রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সকলের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল ও নিষিদ্ধ করতে হবে, কারণ এটি একটি স্বৈরাচারী ও সন্ত্রাসী সংগঠন।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মগবাজারে এলডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি নোবেল বিজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনূসসহ নতুন সরকারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের সফলতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কর্নেল অলি আহমদ বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর ইত্যাদি দেশে সাজাপ্রাপ্ত ও বহিষ্কৃত বাংলাদেশি ভাইদের মুক্তি ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
২০০৯ সাল থেকে যেসব মানুষ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে সকল মিথ্যা মামলা তুলে নিতে হবে এবং যারা গ্রেপ্তার ও বন্দি হয়েছেন তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
প্রাক্তন সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীসহ সরকার কর্তৃক অপহৃত, নিহত ও গুম করা ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় ১৯৯৬ সালের পর থেকে অবৈধ সংযোজনগুলো বাতিল করতে হবে এবং ওই সব মুক্তিযোদ্ধার পোষ্যদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগও বাতিল করতে হবে।
স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল অভিযুক্ত ও পলাতক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে হবে, তাদের অবৈধ সম্পদ জব্দ করতে হবে এবং বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ প্রত্যর্পণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইতে হবে।
বাংলাদেশের স্থল, জল বা বিমানবন্দর দিয়ে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি পলায়ন করতে না পারে বা অপরাধীরাও অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ামাত্র শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি স্পষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে এবং পরবর্তী চারটি জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করতে হবে।
সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি গঠন করতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রীসহ প্রজাতন্ত্রের সকল প্রতিষ্ঠানে (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ) শীর্ষ নির্বাহী পদে কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই বারের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।
কর্নেল অলি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবিলম্বে নিজ নিজ দায়িত্বে ফেরার অনুরোধ করছি। প্রয়োজনে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সাময়িকভাবে পুনর্নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। ডিজিএফআই ও অন্যান্য আটক কেন্দ্রকে আত্মসমর্পণকারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। সকল অবৈধ অস্ত্র সাময়িকভাবে নিকটস্থ আইন-প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে হবে। ২০০৯ সাল থেকে ইস্যুকৃত সকল আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স স্থগিত করতে হবে, যা তদন্তসাপেক্ষে পুনর্বহাল করা যেতে পারে।
অর্থনীতিকে পুনর্জীবিত করতে বন্দর, কাস্টমস এবং সকল সরকারি সেবা দ্রুততম সময়ে পুনরায় স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান কর্নেল অলি। গার্মেন্টসসহ সব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসী কর্মীদের বৈধ পন্থায় রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাই।