ইসরায়েলি হামলায় একই পরিবারের ৮ জন নিহত হয়েছেন ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মধ্যাঞ্চলে। গতকাল রবিবার(১৩ অক্টোবর) ফিলিস্তিনি চিকিৎসা কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন।
কর্মকর্তারা বলছেন, ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াই অব্যাহত থাকার মধ্যে এই অঞ্চলটির উত্তরাঞ্চল থেকে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনিকে সরে যেতে চাপ দিচ্ছে।
অপরদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও বিমান ও স্থল অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। চলতি মাসের শুরুর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরানে হামলা চালাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কীভাবে বা কখন এই হামলা চালানো হবে, তা জানায়নি ইসরায়েল।
নিকটবর্তী দেইর আল-বালাহ'র আল-আকসা শহীদ হাসপাতাল জানিয়েছে, শনিবার রাতে গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের একটি বাড়িতে হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে বাবা-মা ও তাদের ছয় সন্তান নিহত হয়। নিহতদের সকলের বয়স ৮ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে।
এতে আরও সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তারা। আহতদের মধ্যে দুই নারী ও এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গুলি
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) একজন সাংবাদিক লাশগুলো গণনা করেছেন এবং হাসপাতালে অনুষ্ঠিত জানাজার নামাজের ভিডিও করেছেন।
হামাসের সঙ্গে যুদ্ধের এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রায় প্রতিদিনই গাজায় যোদ্ধাদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
সামরিক বাহিনী বলছে, তারা বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি এড়ানোর চেষ্টা করে এবং তাদের মৃত্যুর জন্য হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করে। কারণ, তারা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী খুব কমই পৃথক হামলার সম্পর্কে মন্তব্য করে। এসব হামলায় প্রায়শই নারী ও শিশুরা নিহত হন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত স্কুলগুলোতে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের লুকিয়ে থাকার অভিযোগ এনে বারবার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের বোমা হামলা ও স্থল হামলায় ৪২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এসব হামলায় বেশিরভাগ অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।