তেহরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই কেবল ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম রাইসি।
চুক্তি থেকে কখনো বের না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারলে তার সরকার সরাসরি আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। এদিকে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ করছে দাবি করে উদ্বেগ জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পাঁচ বিশ্বশক্তি ও জার্মানির সম্পাদিত পরমাণু চুক্তিতে ফেরা নিয়ে দোলাচলের মধ্যেই ভিয়েনায় যখন বৈঠকের তৎপরতা চলছে তখন ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকে ইরানের পরমাণু কার্যক্রমের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানায় যুক্তরাষ্ট্র।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনলেও বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পুনরায় চুক্তিতে ফেরার আভাস দেন। বিশেষ করে ইরানের পরমাণু কার্যক্রম বন্ধে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাইডেন প্রশাসন। এরই মধ্যে ভিয়েনায় কয়েক দফা বৈঠক হলেও তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।
তবে কোন সমঝোতা নয় বরং চুক্তি থেকে বের না হয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারলেই কেবল সরাসরি আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার ইরানি প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম রাইসি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবাররই সরাসরি আলোচনার কথা বললেও তা তারা করতে পারেনি। অন্যদিকে, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে ফেরার শর্ত হিসেবে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
ইবরাহিম রাইসি বলেন, সব পক্ষ যদি ইরানের ওপর আরোপিত অনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তবেই কেবল আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সব সময় বলে তারা সরাসরি আলোচনা চায়। এটা নতুন কিছু নয়। এর আগেও তারা একই কথা বলেছে। অথচ এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো ধরনের সমঝোতা হয়নি। আমরা গোটা বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই। যে সব দেশ আমাদের সহায়তা করবে আমরাও তাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত। আর যে দেশগুলো আমাদের বিরোধিতা করবে আমরা স্বাভাবিকভাবেই তাদের প্রতিহত করব।
ইরানের দাবি, অনানুষ্ঠানিক পেপারের মাধ্যমে ভিয়েনায় অবস্থানরত মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ থাকলেও ইরানের সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র বাদে বাকি চার বিশ্বশক্তি ও জার্মানির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির আব্দুল্লাহিয়ান বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিরা সমঝোতা ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে বারবার আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে বাস্তবায়নের নিশ্চয়তাসহ একটি ভালো পরমাণু সমঝোতায় পৌঁছার বিষয়টি নিশ্চিত হলেই কেবল সরাসরি আলোচনার বিষয়টি বিবেচনা করবে তেহরান।