জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তা সংস্থা (UNRWA) রবিবার সতর্ক করেছে যে, গাজা একটি "মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষের" মুখোমুখি এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘ-নেতৃত্বাধীন মানবিক সহায়তা ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
UNRWA'র যোগাযোগ পরিচালক জুলিয়েট তৌমা মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানি এক্স-এ বলেছেন: “আমরা আমাদের সমষ্টিগত মানবতা হারানোর খুব, খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।”
তৌমা বলেন, এই দুর্ভিক্ষ "মূলত একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রয়াসের মাধ্যমে জাতিসংঘ-সমন্বিত মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করার চেষ্টার ফল," যা তথাকথিত ‘GHF’ (গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন) নামে পরিচিত।
তিনি আরও বলেন, এই বিকল্প ইসরায়েলি-আমেরিকান ব্যবস্থাটি "অমানবিকতা, বিশৃঙ্খলা ও মৃত্যু" নিয়ে এসেছে।
তৌমা বলেন,“আমাদের অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের ভিত্তিতে একটি ঐক্যবদ্ধ, জাতিসংঘ-নেতৃত্বাধীন সমন্বয় ও বিতরণ ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে।”
এবং তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই নিকৃষ্টতা বন্ধ হতেই হবে।”
শনিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরও ১১ জন ফিলিস্তিনি, যার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে, ক্ষুধায় মারা গেছে। এতে করে ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে এ পর্যন্ত অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫১ জন, যার মধ্যে ১০৮ জন শিশু রয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ২৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৭৫ জন আহত হয়েছে। ২৭ মে থেকে, যখন গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (GHF) কাজ শুরু করে, তখন থেকে খাবার ও সহায়তা খুঁজতে গিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৯২৪ জন, এবং আহত হয়েছে ১৪,২৮৮ জনের বেশি।
আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে গাজায় এক নৃশংস সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬১,৯০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এই অবিরাম বোমাবর্ষণ গাজা ভূখণ্ডকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে এবং একটি গুরুতর দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
গত নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াওভ গ্যালান্ট এর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
গাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) গণহত্যার মামলার মুখোমুখিও রয়েছে ইসরায়েল।
সূত্র: আনাতোলিয়া এজেন্সি।