ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কুদস ঘাঁটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবার (২৭ আগস্ট) সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে সশস্ত্র সংঘর্ষে আইআরজিসি-এর এক সদস্য নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।
বিবৃতি অনুযায়ী, ইরানশহর, খাশ এবং সারাভান শহরে তিনটি পৃথক অভিযানে ১৩ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে এবং অন্যদের আটক করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এসব এলাকায় সহিংসতা বেড়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন হালভশ জানিয়েছে, ইরানশহরের চাহ-জামাল এলাকায় সকাল ৫টার দিকে অভিযান শুরু হয় এবং তা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘক্ষণ গোলাগুলির শব্দ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখার কথা জানিয়েছেন। হালভশে পাঠানো ছবিতে দেখা গেছে, একটি ক্রেইনের মাধ্যমে দুটো বিধ্বস্ত গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সারাভানে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হুশাক গ্রামে একটি বাড়িকে ঘিরে ধরে আইআরজিসি এবং ভারী অস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়, যার ফলে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের দ্বারা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষিত সুন্নি জঙ্গি গোষ্ঠী জৈশ আল-আদল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংঘর্ষে তাদের হতাহত হয়েছে, তবে বিস্তারিত এখনও যাচাই করা হচ্ছে।
এই অভিযানগুলো এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন মাত্র কয়েক দিন আগে ইরানশহরের কাছে এক হামলায় পাঁচজন ইরানি পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। কর্তৃপক্ষ এই হামলার জন্য জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকেই দায়ী করেছে। সেই হামলার দায় জৈশ আল-আদল স্বীকার করেছিল, আগেও তারা সারাভান ও জাহেদানে একাধিক হামলার দায় নিয়েছে।
এই সহিংসতার জবাবে আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা প্রদেশে দুটি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে এবং বিস্ফোরক ও যোগাযোগ সরঞ্জাম জব্দ করেছে। রক্ষীবাহিনী জানিয়েছে, ওই জঙ্গিরা স্থানীয় সোর্স দ্বারা শনাক্ত করা গোপন ঘাঁটি ব্যবহার করে নাশকতা ও বোমা হামলার পরিকল্পনা করছিল।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী সিস্তান-বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরে সুন্নি জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর বিদ্রোহের কেন্দ্রস্থল এবং ইরানের সবচেয়ে অশান্ত অঞ্চলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।