সব সময় সব খানে


বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬

১৪ কার্তিক ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
১৪ কার্তিক ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

>> হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফাহিম ফয়সাল

>> মানুষের কল্যাণে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান লালমনিরহাট যুবদল নেতাদের

>> ভাঙ্গায় সাবেক চেয়ারম্যান লাভলুর অভিযোগের প্রতিবাদে প্রবাসী মিঠুর সংবাদ সম্মেলন

>> পেনসিলভানিয়ায় কোম্পানীগঞ্জ সোসাইটির নতুন কমিটি, সভাপতি রাকিব, সম্পাদক সোহাগ

>> মানুষের দোরগোড়ায় ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানোর উদ্যোগ পূবালী ব্যাংকের

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির।

>> গণশৌচাগার সংকটে লালমনিরহাট শহর, দুর্ভোগে নারী- শিশু-বয়স্করা

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির

>> শিক্ষকদের সম্মিলিতস্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: বাদাশিকস কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি জয়নুল আবেদীন

আপনি পড়ছেন : বিশ্ব

ড্রাগনে ভয়, ইগলের ডানায় ভরসা খুঁজুক ভারত


মোঃ মামুন, ডেস্ক রিপোর্ট

eshomoy.com || 2025-10-04
ড্রাগনে ভয়, ইগলের ডানায় ভরসা খুঁজুক ভারত
প্রতিকি ছবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্প্রতি চীনে গিয়েছিলেন। তিয়ানজিনে তাঁর এই সফর ছিল সাত বছরের মধ্যে প্রথম চীন সফর। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনে তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন, কথা বলেন। এতে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের এক সংহতির ছবি ফুটে ওঠে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে এই বাহ্যিক দৃশ্যের আড়ালে রয়েছে অনেক জটিল এক বাস্তবতা, যা ভারতকে অত্যন্ত সতর্কতা ও সুস্পষ্ট কৌশলে সামাল দিতে হবে।

চীনে মোদির এই সফরকে অনেকে এক ধরনের ডিপ্লোম্যাটিক রিস্টার্ট বা কূটনৈতিক পুনর্যাত্রা হিসেবে দেখছেন। এক ঘণ্টার সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকে মোদি ও সি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ফের চালুর সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে তিব্বতে অবস্থিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র স্থান কৈলাস মানস সরোবর যাত্রাও আবার উন্মুক্ত করতে তাঁরা সম্মত হন। করমর্দন হলো, ছবি তোলা হলো, আর মনে হলো—দুই এশীয় শক্তির মধ্যে এক নতুন শান্তিপূর্ণ সহযোগিতার অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।

তবে সন্দেহের যথেষ্ট জায়গা আছে। ১৯৫০-এর দশক থেকে ভারত বারবার চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করেছে। কিন্তু বেশির ভাগ সময়েই হতাশা আর বিশ্বাসঘাতকতার অভিজ্ঞতা হয়েছে। ১৯৬২ সালের যুদ্ধে চীন হঠাৎ হিমালয় সীমান্তে সমন্বিত আক্রমণ চালায়। সেই যুদ্ধ দুই দেশের বন্ধুত্বের আশা ভেঙে দেয়। ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর উদ্যোগে কিছুটা শান্তি ফিরে আসে। কিন্তু গত এক দশকে আবারও উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ২০১৩ সালে ডেপসাং, ২০১৪ সালে চুমার, ২০১৭ সালে ডোকলাম এবং ২০২০ সালে গালওয়ানে প্রাণঘাতী সংঘাত—সব মিলিয়ে সীমান্ত পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে।

ভারত-চীন সীমান্তের লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) নিয়ে বিরোধ মেটেনি। বরং চীন সীমান্তজুড়ে অবকাঠামো বাড়াচ্ছে। এর পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক—চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর, সামরিক সহায়তা আর কূটনৈতিক সমর্থন—ভারতের জন্য বড় কৌশলগত দুর্বলতা তৈরি করছে। তাই যতই সুন্দর ছবি বা ইতিবাচক পরিবেশ তুলে ধরা হোক, বাস্তবে এই জটিল সমস্যাগুলো সমাধান করা সহজ হবে না।

চীন-ভারত সম্পর্ক বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতিতেও জরাজীর্ণ। চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। এর মানে হলো—ভারত নানা চীনা পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। ইলেকট্রনিকস থেকে শুরু করে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল ও রেয়ার আর্থস বা বিরল মৃত্তিকা ধাতু—সবকিছুর বড় অংশই আসে চীন থেকে। অথচ ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি ও সেবা খাত চীনের বাজারে জায়গা করে নিতে হিমশিম খাচ্ছে। বিপরীতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতের সরবরাহ ব্যবস্থায় শক্তভাবে আধিপত্য বিস্তার করেছে।