সব সময় সব খানে


শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬

১৫ কার্তিক ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
১৫ কার্তিক ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

>> হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফাহিম ফয়সাল

>> মানুষের কল্যাণে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান লালমনিরহাট যুবদল নেতাদের

>> ভাঙ্গায় সাবেক চেয়ারম্যান লাভলুর অভিযোগের প্রতিবাদে প্রবাসী মিঠুর সংবাদ সম্মেলন

>> পেনসিলভানিয়ায় কোম্পানীগঞ্জ সোসাইটির নতুন কমিটি, সভাপতি রাকিব, সম্পাদক সোহাগ

>> মানুষের দোরগোড়ায় ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানোর উদ্যোগ পূবালী ব্যাংকের

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির।

>> গণশৌচাগার সংকটে লালমনিরহাট শহর, দুর্ভোগে নারী- শিশু-বয়স্করা

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির

>> শিক্ষকদের সম্মিলিতস্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: বাদাশিকস কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি জয়নুল আবেদীন

আপনি পড়ছেন : বিশ্ব

দুই বছর ধরে অফিসে না গিয়েও বেতন তুলেছেন ৩৭ লাখ টাকা !


মোঃ মামুন, ডেস্ক রিপোর্ট

eshomoy.com || 2025-10-28
দুই বছর ধরে অফিসে না গিয়েও বেতন তুলেছেন  ৩৭ লাখ টাকা !
প্রতীকী ছবি

দপ্তরের টেবিল খালি, চেয়ার ধুলোয় ঢাকা, অথচ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমছে বেতন—এই চিত্র আর কল্পকাহিনি নয়, বাস্তবের প্রশাসনিক নষ্টামির এক মর্মস্পর্শী প্রতীক। 

দুই বছর ধরে অফিসের চৌকাঠ না মাড়িয়েও প্রায় ৩৭ লাখ টাকার বেতন তুলেছেন ভারতের এক সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী, আর সেই ভুয়া হাজিরার অনুমোদন দিয়েছেন কর্মকর্তা নিজেই। এমন কাণ্ডে এখন চরম আলোড়ন দেখা দিয়েছে প্রশাসনিক অন্দরে। 

তদন্তে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের অধীন তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা পদে ছিলেন প্রদ্যুম্ন দীক্ষিত। সরকারি পদে থেকে তিনি দুই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—ওরিয়নপ্রো সলিউশন্স ও ট্রিজেন সফটওয়ার লিমিটেডকে সরকারি টেন্ডার পাইয়ে দেন। এর বিনিময়ে তার স্ত্রী পুনম দীক্ষিতকে ওই সংস্থাগুলোর কর্মী হিসেবে দেখিয়ে বেতন চালানো হয়। 

জানুয়ারি ২০১৯ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২০ পর্যন্ত পুনমের পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে ৩৭ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৫ টাকা, অথচ তিনি কখনোই অফিসে যাননি, কোনো কাজ করেননি, কোনো প্রকল্পে অংশ নেননি। 

প্রদ্যুম্ন নিজেই স্বাক্ষর করেছেন স্ত্রীর উপস্থিতি রিপোর্টে—এ যেন সরকারি দপ্তরকে নিজের পরিবারের শেয়ার বাজারে পরিণত করার এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।

তদন্তের নথি বলছে, ওরিয়নপ্রো পুনমকে দেখিয়েছে সংস্থার কর্মী হিসেবে, আর ট্রিজেন দেখিয়েছে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে। দুই দিক থেকেই নিয়মিত টাকা এসেছে। একই সময়ে দুই সংস্থার হাতে গেছে কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প। 

তদন্তকারীরা বলছেন, এটি মূলত ‘ঘুষের নতুন ফর্মুলা’ কাগজে-কলে বেতন, বাস্তবে প্রকল্পের বিনিময়ে অর্থ ফেরত। প্রদ্যুম্নের স্ত্রী কেবল নামেই কর্মী, কিন্তু বেতনটা এসেছে সরকারি চুক্তির আড়ালে। প্রশাসনের ভেতরে এমন সুচারু প্রতারণা চলতে পারে, তা সাধারণ মানুষ কল্পনাও করতে পারছে না।

এই ঘটনার সূত্রপাত হয় এক নাগরিকের পিটিশন থেকে। রাজ্য হাই কোর্ট সেই আবেদনের ভিত্তিতে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্ত শুরু হতেই বেরিয়ে আসে একের পর এক অস্বচ্ছ আর্থিক লেনদেনের চিত্র। 

জানা যায়, প্রদ্যুম্ন দীক্ষিত নিজের প্রভাব ব্যবহার করে সরকারি নজরদারি ও নিরীক্ষা বিভাগকে পাশ কাটিয়ে এই অপকর্ম দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে গেছেন। এমনকি তদন্তের শুরুতে তিনিও এবং তাঁর স্ত্রী দুজনেই তদন্তকারীদের সামনে উপস্থিত হতে অস্বীকার করেন। 

পরে যখন ডেকে পাঠানো হয়, তারা দায় চাপান “ভুল বোঝাবুঝি” ও “ব্যবস্থাগত বিভ্রান্তি”-র উপর। কিন্তু তদন্তকারী দল বলেছে, সমস্ত ব্যাংক ট্রানজ্যাকশন, ইমেল রেকর্ড, অনুমোদিত কাগজপত্র তাদের হাতে আছে—যা প্রমাণ করে এটি কোনো ভুল নয়, বরং সুপরিকল্পিত দুর্নীতির ফাঁদ।

প্রশাসনিক মহলে এই ঘটনার পর শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। বহু কর্মকর্তা বলছেন, এটি কেবল একজন অফিসারের অপরাধ নয়, বরং গোটা প্রশাসনিক কাঠামোর নৈতিক পতনের প্রতিচ্ছবি। 

যেখানে দায়িত্বের পরিবর্তে সুবিধা, এবং ন্যায়ের জায়গায় ব্যক্তিস্বার্থ