যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী ও আর্থ লগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইনের তদন্তের সব ফাইল প্রকাশের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ৪২৭-১ ভোটে এবং উচ্চকক্ষ সিনেট সর্বসম্মতিক্রমে এ বিষয়ে একটি বিল পাস করেছে।
আল
জাজিরা জানিয়েছে, বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয়েছে। ট্রাম্প এটি স্বাক্ষর করলে তারপর ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন বিচার বিভাগকে এপস্টেইনের তদন্ত বিষয়ক সব নথিপত্র প্রকাশ করতে হবে।
এদিকে হোয়াইট হাউসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প তার ডেস্কে পৌঁছানোর সাথে সাথেই বিলটিতে স্বাক্ষর করবেন। স্থানীয় সময় বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকালে সিনেটের অধিবেশন শুরু হওয়ার পর বিলটিতে তার স্বাক্ষর করার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় এপস্টেইন ফাইল প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ক্ষমতায় বসার পর গড়িমসি শুরু করেন তিনি। অবশেষে ভুক্তভোগীদের পাশাপাশি নিজের অনেক সমর্থকের বিক্ষোভ-প্রতিবাদের মুখে অবস্থান পরিবর্তন করে গত সপ্তাহে কংগ্রেসকে নথি প্রকাশের জন্য ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মাত্র কয়েকদিন পরই মার্কিন কংগ্রেস এই পদক্ষেপ নিলো।
২০
হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠার নথির মধ্যে কিছু জায়গায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথাও উল্লেখ রয়েছে। এটি ঘিরে ট্রাম্প ও এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক আবারও শিরোনামে আসে। যদিও ট্রাম্প কোনো অন্যায় কাজ করেননি বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস।
প্রতিনিধি পরিষদে এপস্টেইনের ফাইল প্রকাশের বিষয়ে আপত্তি জানানো একমাত্র ব্যক্তি হলেন লুইজিয়ানার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ক্লে হিগিন্স। এসব তথ্য প্রকাশের ফলে ‘নিরপরাধ মানুষদের আহত করা হচ্ছে’ বলেও উদ্বেগ জানান তিনি। অন্যদিকে এপস্টেইনের ফাইল প্রকাশে বারবার চাপ প্রয়োগ করার ঘটনাকে ‘ডেমোক্র্যাটদের প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছেন হাউজ স্পিকার মাইক জনসন।
অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে আইনটি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এপস্টেইন এবং তার সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘সকল রেকর্ড, নথি, যোগাযোগ এবং তদন্তমূলক উপকরণ’ প্রকাশ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এপস্টাইনের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া অ্যানি ফার্মার বলেছেন, ফাইলগুলো গোপন রাখা ‘প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসঘাতকতার শামিল’। ফার্মার বলেন, ‘যেহেতু এই অপরাধগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করা হয়নি, তাই আরো অনেক মেয়ে এবং নারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’
এপস্টেইন ফাইল কী?
‘এপস্টাইন ফাইলস’ শব্দটি কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প প্রশাসনকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। কারণ দোষী সাব্যস্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের অপরাধের কারণে সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এপস্টেইনের বিরুদ্ধে ফেডারেল তদন্তে যেসব তথ্য উঠে এসেছে, তাতে আরও স্বচ্ছতার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব সমর্থক এবং তার নিজস্ব রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকে চাপ