মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ওভাল অফিসে এক মার্কিন সাংবাদিককে কটূক্তি করেন। ওই সাংবাদিক ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসুলেটে ওয়াশিংটন পোস্টের এক কলামিস্টকে নির্মমভাবে হত্যার বিষয়ে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রশ্ন করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলেছে, যুবরাজের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছিল।
এ
সময় এবিসি নিউজের সাংবাদিক মেরি ব্রুসকে ট্রাম্প বলেন, এ ধরনের প্রশ্ন করে আমাদের অতিথিকে অস্বস্তিতে ফেলবেন না। পরে তিনি ওই প্রশ্নকে ভয়ংকর, ঔদ্ধত্যপূর্ণ এবং একেবারে বাজে বলে অভিহিত করেন।
নিহত সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প আরও বলেন, অনেকেই ওই ভদ্রলোককে পছন্দ করত না। আপনি তাকে পছন্দ করুন বা না করুন, মাঝে মাঝে এমন ঘটনা ঘটে। যুবরাজ অবশ্য খাশোগি হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
এ
ছাড়া প্রেসিডেন্ট এবিসি নিউজকে একটা বাজে কোম্পানি বলে উল্লেখ করে বলেন, নেটওয়ার্কটির সম্প্রচার–লাইসেন্স কেড়ে নেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, তার শীর্ষ সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক ব্রেনডান কার এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।
সৌদি এজেন্টদের হাতে খাশোগির মৃত্যু ও অঙ্গচ্ছেদের ঘটনার পর সৌদি যুবরাজের একটি প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। আর সেখানেই এ কথোপকথনগুলো হয়। খাশোগির মৃত্যুতে আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দার ঝড় ওঠে।
এবিসি নিউজের হোয়াইট হাউস সম্পর্কিত প্রধান সংবাদদাতা ব্রুসের প্রতি ট্রাম্পকে বেশ হতাশ মনে হচ্ছিল। ট্রাম্পকে ব্রুস আরেকটি প্রশ্ন করলে আবারও তাকে অপমানিত করেন ট্রাম্প। ব্রুস তাকে জিজ্ঞেস করেন, ট্রাম্প কেন একতরফাভাবে অর্থদাতা জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কিত ফাইলগুলো প্রকাশের নির্দেশ দেননি।
এর
প্রত্যুত্তরে ট্রাম্প মেরি ব্রুসকে বলেন, প্রশ্ন করা নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই; আপত্তি আপনার আচরণ নিয়ে।
কড়া ভঙ্গিতে তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয় আপনি একজন জঘন্য রিপোর্টার। আপনি যেভাবে প্রশ্নগুলো করেন, সেটা আপত্তিকর। আপনি একজন জঘন্য মানুষ এবং একজন জঘন্য রিপোর্টার।
ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেছে যে, মিস্টার খাশোগির মৃত্যু ছিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আক্রমণ।
সংস্থাটি বলেছে, একজন সাংবাদিককে হত্যার ঘটনাকে ছোট করে দেখা বা তার পক্ষে সাফাই গাওয়ার মতো মন্তব্য বাস্তব জগতে প্রভাব ফেলবে। এগুলো মূল নীতিকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। সাংবাদিকদের নির্ভয়ে কাজ করতে সক্ষম হওয়া উচিত, কোনো হিংসা বা প্রতিশোধের ভয়ে নয়।
যদিও ট্রাম্প নিয়মিতই সংবাদমাধ্যমকে হেয় করে কথা বলেন। তবুও তিনি সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের ডজনখানেক প্রশ্নের উত্তর দেন, কখনও কখনও একই দিনে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কয়েকবারও সাক্ষাৎ করেন। তিনি পুরুষ ও নারী উভয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে তীব্র অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলেছেন। তবে নারীদেরই তার সবচেয়ে কঠোর অপমানগুলোর মুখোমুখি হতে হয়েছে