ইরান সফরে যাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গেল ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো বিদেশ সফরে যাচ্ছেন তিনি। ১৯ জুলাই (মঙ্গলবার) তার এই সফর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সফরকালে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে পুতিনের। তুরস্কের কর্মকর্তারা বলেন, খাদ্যশস্য, সিরিয়া ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে তাদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিদেশ সফর সীমিত করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। তবে গত জুনে তাজিকস্তান ও তুর্কমেনিস্তানে সফর করেন তিনি। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দেশ দুটিতে এখনো একনায়কতান্ত্রিক শাসন বহাল আছে।
মঙ্গলবারের সফরের মধ্য দিয়ে ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তেহরানের হাতে গোনা কয়েকটি আন্তর্জাতিক মিত্রের একটি মস্কো। বিপরীতে ইরানের বিরুদ্ধে উপর্যুপরি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে কয়েকশ সশস্ত্র ড্রোন সরবরাহের পরিকল্পনা করছে ইরান। আর মঙ্গলবার রাশিয়ার তেল কোম্পানি গ্যাজপ্রোমের সঙ্গে চার কোটি মার্কিন ডলারের উন্নয়ন চুক্তি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি।
পুতিনের শীর্ষ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা উইরি উসাকভ বলেন, খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি বিশ্বাসযোগ্য সংলাপ দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক এজেন্ডাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।
সিরিয়া গৃহযুদ্ধে বিপরীত পক্ষে আছে তুরস্ক ও রাশিয়া। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সহিংসতা কমিয়ে আনার পথ খুঁজছে দেশ দুটি। এমন এক সময়ে এই বৈঠক হতে যাচ্ছে, যখন সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে মার্কিন-সমর্থিত কুর্দিশ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান পরিচালনার কথা ভাবছে তুরস্ক।