ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি কোচিং সেন্টারের বেজমেন্টে পানিতে ডুবে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নেমেছেন। এই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এনডিটিভির তথ্যমতে, শনিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিপাতের পর বৃষ্টির পানি কোচিং সেন্টারের বেজমেন্টে ঢুকে যায়, ফলে তিনজন শিক্ষার্থী পানিতে ডুবে মারা যান। নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী এবং একজন পুরুষ ছিলেন, যারা সবাই সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং ওই কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করতেন।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ড্রেনগুলো পরিষ্কার রাখা হলে বৃষ্টির পানি নেমে যেত। কিন্তু ড্রেন আটকে থাকায় পানি জমে যায় এবং সেটি কোচিং সেন্টারের বেজমেন্টে ঢুকে পড়ে।
ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সেন্ট্রাল) এম হর্ষবর্ধন জানিয়েছেন, ঘটনায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে রয়েছে। তিনি বলেছেন, “আমরা সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্য উদঘাটনে বদ্ধপরিকর।” এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
এনডিটিভির আরও জানায়, কোচিং সেন্টারের বেজমেন্টে লাইব্রেরি ছিল যেখানে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছিলেন। সন্ধ্যার পর বৃষ্টির সময় রাস্তায় দুই থেকে তিন ফুট পানি জমে যায়, যা ভবনের বেজমেন্টে ঢুকে পড়ে। ওই সময় বেজমেন্টে ৩৩ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩০ জন নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পারলেও তিনজন আটকা পড়েন। চার ঘণ্টা পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দিল্লির মেয়র শেলি ওবেরয় এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং পূর্ণ তদন্ত ও কঠোরতম পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন।