সব সময় সব খানে


বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬

১৪ কার্তিক ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
১৪ কার্তিক ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

>> হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফাহিম ফয়সাল

>> মানুষের কল্যাণে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান লালমনিরহাট যুবদল নেতাদের

>> ভাঙ্গায় সাবেক চেয়ারম্যান লাভলুর অভিযোগের প্রতিবাদে প্রবাসী মিঠুর সংবাদ সম্মেলন

>> পেনসিলভানিয়ায় কোম্পানীগঞ্জ সোসাইটির নতুন কমিটি, সভাপতি রাকিব, সম্পাদক সোহাগ

>> মানুষের দোরগোড়ায় ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানোর উদ্যোগ পূবালী ব্যাংকের

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির।

>> গণশৌচাগার সংকটে লালমনিরহাট শহর, দুর্ভোগে নারী- শিশু-বয়স্করা

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির

>> শিক্ষকদের সম্মিলিতস্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: বাদাশিকস কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি জয়নুল আবেদীন

আপনি পড়ছেন : অর্থনীতি

অশনিসংকেত দিচ্ছে আইএমএফ সুর পাল্টে 


নিজেস্ব প্রতিবেদক -ইসময়

eshomoy.com || 2022-04-20



অশনিসংকেত দিচ্ছে আইএমএফ সুর পাল্টে 

 

 

চলতি বছরের জানুয়ারিতে করোনা পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে নেমে এলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছিল, ২০২২ সালে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটবে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও চীনে নতুন করে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে নিজেদের ভবিষ্যদ্বাণী থেকে সরে এসেছে আইএমএফ।


ফেব্রুয়ারির শেষার্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন। এতে বিশ্ববাজারে দেখা দেয় বড় রকমের অস্থিরতা। এরই মধ্যে চীনে নতুন করে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে লকডাউনের মুখে পড়ে সাংহাই। অন্যদিকে যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে দেখা দিয়েছে মুদ্রাস্ফীতি। এ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটনভিত্তিক দেশ নেপাল ও শ্রীলংকা চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। এতসব ঝাক্কি-ঝামেলায় নিজেদের করা পুরোনো ভবিষ্যদ্বাণী ফিরিয়ে নিয়েছে আইএমএফ।
 

বছরের শুরুতে আইএমএফ বলেছিল, চলতি বছরে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটবে। তবে মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে প্রকাশিত নিজেদের এক প্রতিবেদনে আইএমএফ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে নিয়ে আসে। এ ছাড়াও সামনের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে আইএমএফ প্রবৃদ্ধির হার কমিয়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে এনেছে।
 

এ ছাড়াও সংস্থাটি বলছে, চলতি বছর উন্নত দেশগুলোতে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হারে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেবে। এ ছাড়াও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই মুদ্রাস্ফীতির হার হবে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৩ সালে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে বাড়বে ভোগ্যপণ্যের দাম। দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
 

মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়েরে অলিভিয়ার বলেন, 'বিশ্বের প্রতিটি দেশে মুদ্রাস্ফীতি ভয়াবহ সংকটাবস্থা সৃষ্টি করছে। আমাদের সামনে এটি এখন স্পষ্টত প্রধান সমস্যা। আমরা ধারণা করছি, দীর্ঘসময় ধরে এ সমস্যা চলতে থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে এখনই তাদের কার্যক্রম ঢেলে সাজাতে হবে।’
 

ওয়াশিংটনভিত্তিক এই আর্থিক সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, যুদ্ধের ফলে চলতি বছর ইউক্রেন ৩৫ শতাংশ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। অন্যদিকে রাশিয়ার ক্ষেত্রে এই ক্ষতির পরিমাণ ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর দেওয়া বিরামহীন নিষেধাজ্ঞার ফলে সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে রাশিয়া।
 

তবে যুদ্ধ শুধু রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। পরোক্ষভাবে সমগ্র বিশ্ব এখন যুদ্ধের ফলাফল ভোগ করছে। ইউরোপে দেখা দিয়েছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে দিশেহারা সমগ্র বিশ্ব। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ইতোমধ্যে লাতিন আমেরিকার দেশ পেরুতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির ভার সইতে না পেরে রাস্তায় নেমে এসেছে শ্রীলংকার সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের উল্লেখযোগ্য কিছু দেশ চলতি দশকের ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতির মধ্য দিয়ে কালক্ষেপণ করছে।
 .

অন্যান্য দিক থেকেও আইএমএফ তাদের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনছে। গত সপ্তাহে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিলিনা জর্জিভা বলেছিলেন, 'আমাদের ১৪৩টি সদস্যরাষ্ট্র বিশ্বের ৮৬ শতাংশ অর্থনীতির জোগান দিয়ে থাকে। তবে এবার আমরা লক্ষ্যমাত্রা কমাতে বাধ্য হচ্ছি। দেশীয় পণ্য উৎপাদনে এবার দেশগুলো পিছিয়ে থাকবে বলে মনে হচ্ছে।'
 

অলিভিয়ার বলেন, 'আমরা শুধু করোনার আঘাত সামলে দাঁড়িয়েছি, এরই মধ্যে ইউরোপের যুদ্ধে জড়িয়ে যাওয়াটা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় রকমের আঘাত।' যুদ্ধে ইউরোপের দেশগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মহামারির মধ্যেও গত বছর যেখানে দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ, সেখানে চলতি বছর যুদ্ধের প্রভাবে প্রবৃদ্ধি নেমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশে।
 

ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থার ফলে বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব থেকে কিছুটা গা বাঁচিয়ে চলতে সক্ষম হবে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও যুদ্ধের শুরুতে চলতি বছর দেশটির আনুমানিক প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ৪ শতাংশ, এখন তা কমিয়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
 

একইভাবে নতুন করে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও যুদ্ধের প্রভাবে চীনের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছে আইএমএফ। তবে চীন সরকার জানিয়েছে, চলতি বছর তাদের লক্ষ্য ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা।

 
সামগ্রিকভাবে যুদ্ধের আগে আইএমএফ উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারণ করেছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। যুদ্ধ শুরু হলে এই হার পরিবর্তন করে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। একইভাবে উন্নয়নশীল অর্থনীতির প্রাক-যুদ্ধ প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪ দশমিক ৮ শতাংশ, যা বর্তমানে কমিয়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
 
মার্চের শুরুর দিকে আইএমএফ জানিয়েছিল, যুদ্ধ শুধু ইউক্রেনেই সীমাবদ্ধ থাকবে ও মার্চের শেষের দিকে রাশিয়ার সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলোর একরকমের সমঝোতার সৃষ্টি হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 
সমগ্র বিশ্ব একধরনের অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি খারাপ অবস্থার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় কিংবা ইউরোপের আর কোনো দেশ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বড় রকমের সংকটের সৃষ্টি হবে। এ ছাড়াও চীনের লকডাউন কতদিন নাগাদ স্থায়ী হবে, তা এখনই হলফ করে বলা যাচ্ছে না। করোনার নতুন কোনো ভ্যারিয়েন্ট আঘাত হানলে ও বিশ্ব আবার লকডাউনে গেলে অর্থনৈতিকভাবে বিশ্ব ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এ ছাড়া যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হলে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে, সৃষ্টি হতে পারে বড় রকমের মুদ্রাস্ফীতি।
 

এ ছাড়াও আইএমএফ জানিয়েছে, রাশিয়ার ওপর তেল-গ্যাসের নিষেধাজ্ঞা বিস্তৃত করা হলে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাবে। এতে করে পুরো বিশ্বে জিডিপির ওপর বড় রকমের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। এমন সংকটময় অবস্থা চলমান থাকলে ২০২৩ সালে ইউরোপের জিডিপি ৩ শতাংশের নিচে নেমে আসবে ও বৈশ্বিক জিডিপি ২ শতাংশে নেমে আসবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে আইএমএফ। এ অবস্থার উন্নতি না হলে দীর্ঘকালীন সময়ে বিশ্বকে স্থায়ী সংকটের মুখোমুখি হতে হবে। এতে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক জিডিপির হার ১ শতাংশে নেমে আসবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইএমএফ।
 

এদিকে উন্নত দেশগুলো ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে থাকলে উদীয়মান অর্থনৈতিক দেশগুলো সংকটের মুখে পড়বে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে আইএমএফ। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সোভারিন ঋণের দিকে জোর দিচ্ছে আইএমএফ। তবে সংকটকালীন সময়ে কে কার প্রতি কতটুকু বন্ধুভাবাপন্ন থাকবে, তা নিশ্চিত করে এখনই বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।