সিলেট নগরীর কাজিরবাজারে চা দিতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে এক রেস্টুরেন্ট কর্মচারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম রুমন মিয়া (২২)। তিনি দক্ষিণ সুরমার জালালপুর এলাকার বাসিন্দা। রোববার (১৩ জুলাই) সকালে কাজিরবাজারের নিরঞ্জন ঘোষের রেস্টুরেন্টে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত আব্বাস নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে আব্বাস নামের এক ব্যক্তি নিরঞ্জন ঘোষের রেস্টুরেন্টে চা পান করতে আসেন। তখন রেস্টুরেন্টের কর্মচারী রুমন মিয়া তাকে জানান যে, দোকান সবে খোলা হয়েছে এবং চা তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগবে। এই কথা শুনে আব্বাস ক্ষিপ্ত হয়ে রুমনকে গালিগালাজ শুরু করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে রেস্টুরেন্টের মালিক ও আশেপাশের লোকজন বিষয়টি সমাধান করে দিলে আব্বাস সেখান থেকে চলে যান। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই আব্বাস কয়েকজন সঙ্গীসহ আবার রেস্টুরেন্টে ফিরে আসেন এবং রুমন মিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এক পর্যায়ে তারা রুমনকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় রুমনকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রেস্টুরেন্টে মালিক নিরঞ্জন ঘোষ জানান, চা দিতে দেরি হওয়ায় আব্বাস রুমনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। বিষয়টি তখন মিটমাট হয়ে গেলেও সকাল ৯টার দিকে সে লোকজন নিয়ে এসে আবার হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁর দোকান ভাঙচুর করে এবং ক্যাশবাক্স থেকে টাকাও লুট করে নিয়ে যায়।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সামসুল হাবীব জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তে চা দেওয়া নিয়ে বিতর্কের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আব্বাসকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। রেস্টুরেন্টের মালিকসহ প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।