সব সময় সব খানে


বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬

১৪ কার্তিক ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
১৪ কার্তিক ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

>> হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফাহিম ফয়সাল

>> মানুষের কল্যাণে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান লালমনিরহাট যুবদল নেতাদের

>> ভাঙ্গায় সাবেক চেয়ারম্যান লাভলুর অভিযোগের প্রতিবাদে প্রবাসী মিঠুর সংবাদ সম্মেলন

>> পেনসিলভানিয়ায় কোম্পানীগঞ্জ সোসাইটির নতুন কমিটি, সভাপতি রাকিব, সম্পাদক সোহাগ

>> মানুষের দোরগোড়ায় ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানোর উদ্যোগ পূবালী ব্যাংকের

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির।

>> গণশৌচাগার সংকটে লালমনিরহাট শহর, দুর্ভোগে নারী- শিশু-বয়স্করা

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির

>> শিক্ষকদের সম্মিলিতস্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: বাদাশিকস কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি জয়নুল আবেদীন

আপনি পড়ছেন : সিলেট

সিলেট মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অনিয়ম আর দূর্নীতির আখড়াতে পরিণত হয়েছে


সিলেট প্রতিনিধি

eshomoy.com || 2026-08-30
সিলেট মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অনিয়ম আর দূর্নীতির আখড়াতে পরিণত হয়েছে
ছবি : ইসময়

সরকারি উদ্যোগে মানব সম্পদের উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত সিলেট মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, হাজিরা ও ভাতা বিতরণ, শারীরিক মানসিক নির্যাতনসহ  বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ড্রাইভিং উইথ মেকানিক্স কোর্সের ১৮তম ব্যাচের বেশ কিছু  প্রশিক্ষণার্থী অফিস সহকারী ও প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ভর্তির সুযোগ থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের শেষ পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি হতে অফিস সহকারী শেখ মোহাম্মদ আজাদের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার দাবি করা হয়। এমনকি ভর্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী। তাদের দাবি, সরকারি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যেখানে সাধারণ মানুষের জন্য সুযোগ নিশ্চিত করার কথা, সেখানে অর্থের বিনিময়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার মতো অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

১৮তম  ব্যাচের একাধিক নারী প্রশিক্ষণার্থী  অভিযোগ করেন, প্রশিক্ষণ চলাকালে নারী প্রশিক্ষণার্থীদের বডিতে বাজে টাচ,বিশ্রি ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে শিখার সুষ্ঠ পরিবেশ নষ্ট করে তুলেন প্রশিক্ষক কলিম।

প্রশিক্ষকের আচরণ অনেক সময় অশোভন ও অপমানজনক এবং রূঢ় ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি চালানোর সময় কোনো শিক্ষার্থী ভুল করলে তাকে গালাগালি করার পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। স্পর্শকাতর গরদানে এবং মাথায় উপর্যুপরি থাপড়াতেন একই সঙ্গে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও প্রশিক্ষক কলিমের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, ড্রাইভিংয়ের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ যথাযথভাবে পরিচালিত হয়নি। প্রতি ব্যাচে ২০জন করে ২ শিফ্টে সকাল-বিকাল মোট ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থীর জন্য ৪০ থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যেই ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ শেষ করা হতো বলে অভিযোগ তাদের। এতে প্রত্যেক শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত সময় নিয়ে গাড়ি চালানোর অনুশীলনের সুযোগ পাননি।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, “ভর্তির সময় অফিস সহকারী আজাদ আমার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে কেন টাকা দিতে হবে, সেটিই আমাদের প্রশ্ন।”

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের আরেকটি গুরুতর বিষয় হলো পর্যাপ্ত সময় নিয়ে আন্তরিকতার সাথে না শিখিয়ে পরে পরীক্ষার পূর্ব মুহুর্তে বড়ো অঙ্কের ঘোষ দাবি করেন ,না দিলে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার ভয় দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩৫০০/ টাকা নিয়ে অটোপাস দিয়ে দেন।তাদের অভিযোগ, অফিস সহকারী শেখ মোহাম্মদ আজাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বিনিময়ে ঘুষের টাকায় পাস করে আমরা মানুষ মারার হাতিয়ার হিসেবে বের হয়েছি।

এজন্যই আমাদের দেশে রাস্তায় প্রতিদিন শত শত প্রাণ ঝড়ে অদক্ষ চালকের অভাবে।

উল্লেখ ,ফ্রিতে সরকার সবকিছু দিলেও ভর্তির সময় প্রতি প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে ২৫০/ টাকা বিনা রশিদে নেন।

তারপর লার্নারের নামে ১২০০/ টাকা প্রতি জনের কাছ থেকে নেন।এসমস্ত মাত্রাতিরিক্ত দূর্নীতির কারণে অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়ে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 


এদিকে ১৮তম ব্যাচের কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীর  অভিযোগ, তারা প্রশিক্ষণে উপস্থিত না থাকলেও তাদের হাজিরা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষক কলিমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের হাজিরা দেওয়ার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও নিয়ম-শৃঙ্খলা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগও করেছিলেন। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তারা। ফলে সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে তা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

এদিকে ১৮তম ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ হলেও সরকারি তহবিল থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ভাতার পুরো অর্থ এখনো না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, কেউ কেউ আংশিক ভাতা পেলেও অনেকের বকেয়া টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। অফিস সহকারী আজাদ তাদের বারবার ‘আজ পাবেন, কাল পাবেন’ বলে সময় পার করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, কোর্স চলাকালে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পেতেন তারা। অভিযোগ করলে ব্যাচ থেকে বহিষ্কার বা প্রশিক্ষণ থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো এমন দাবি করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ কারণেই প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার আগে তারা বিষয়গুলো নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাননি বলে জানান।

একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি থেকে প্রশিক্ষণ, হাজিরা ও ভাতা বিতরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যদি অনিয়মের অভিযোগ থাকে, তাহলে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হচ্ছে কি না।


সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষকে দক্ষ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। সেখানে অর্থ লেনদেন, প্রশিক্ষণে অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার কিংবা ভাতা আটকে রাখার মতো অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করবে না, প্রশ্নের মুখে ফেলবে পুরো প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকেও। তাই শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।