এশিয়া কাপের হ্যান্ডশেক বিতর্ক একটা স্পষ্ট ধারাণাই দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। কোনো খেলায় ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হলে দুদলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হ্যান্ডশেক হবে না। এশিয়া কাপের পর নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপেও ওই দৃশ্যই চিত্রায়িত হয়েছিল।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচে হ্যান্ডশেক না করার ধারাবাহিকতা ভেঙেছে হকি দিয়ে। মালয়েশিয়ায় গতকাল সুলতান অব জহর কাপে দুই দেশের অনূর্ধ্ব-২১ দল মুখোমুখি হয়েছিল। পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা লাইন ধরে দাঁড়িয়েছিলেন, ভারতের খেলোয়াড়রা এগিয়ে গিয়ে একে একে সবার সঙ্গে হাই-ফাইভ করেন। ৩-৩ গোলের ড্র শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হয় হ্যান্ডশেকও।
হ্যান্ডশেক বির্তক তৈরি হয়েছিল গত ১৪ সেপ্টেম্বর। সেদিন সরকারের নির্দেশ মেনে পাকিস্তান পুরুষ দলের অধিনায়ক সালমান আলী আগার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেননি ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। পহেলগাম হত্যাকাণ্ডের জেরে পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণা থেকে ভারত এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এরপরে ম্যাচ শেষেও দুদলের খেলোয়াড়দের একে অপরের সঙ্গে হাত মেলানো হয়নি। পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা হাত মেলানোর জন্য দাঁড়িয়ে থাকলেও ভারতের ক্রিকেটাররা ম্যাচ জিতেই ড্রেসিংরুমের দিকে চলে যান। ড্রেসিংরুমে ঢুকে দরজাও বন্ধ করে দেন তারা।
এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান এরপর যতবার মুখোমুখি হয়েছে, ততবার দুই দল হ্যান্ডশেক এড়িয়েছে। এ নিয়ে এশিয়া কাপজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা কম হয়নি। পাকিস্তান অধিনায়ক অবশ্য পরে জানিয়েছিলেন, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ক্যাপ্টেন’স মিটে সূর্যকুমার তার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেছিলেন। সূর্যকুমার হ্যান্ডশেক করেছিলেন পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভির সঙ্গেও। যার কয়েকটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছিল।
নারী বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হয় গত ৫ অক্টোবর। কলম্বোয় সে দেখায়ও ক্রিকেটাররা হ্যান্ডশেক করা থেকে বিরত থাকেন। টসের সময় ভারত অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর ও পাকিস্তান অধিনায়ক ফাতিমা সানা হ্যান্ডশেক করেননি। ম্যাচ শেষেও তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।