জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের বিপর্যয়।এবার উপজেলার ২০টি মাদ্রাসা থেকে মোট ৪৯৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করেছে মাত্র ১৩৭ জন। ফলে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৭ দশমিক ৪৫ শতাংশে।
সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে পুর ফাজিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজনও পাস করতে পারেনি। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।
২০টি মাদ্রাসার ফলাফল যোগ করলে দেখা যায়, ৪৯৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬২ জন অকৃতকার্য হয়েছে, আর পাস করেছে ১৩৭ জন। অর্থাৎ প্রতি ১০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৭৩ জনই পাস করতে পারেনি।
এবিষয়ে পুর মাদ্রাসার অকৃতকার্য ছাত্র মোঃ জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন আমাদের প্রতিষ্ঠানের সবাইকে ইচ্ছাকৃত ভাবে ফেল করে দেওয়া হয়েছে,আমি এতো খারাপ ছাত্র নয় যে ফেল করবো।
অকৃতকার্য ছাত্রী মোছাঃ জয়নব বলেন আমার গণিত পরীক্ষা একটু খারাপ হয়েছে তবে বাংলা পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে কিন্তু সে বিষয়ে ও ফেল করেছি আমার মনে হচ্ছে আমাদের উপর আক্রোশ মূলক ভাবেই ফেল করিয়ে দেওয়া হয়েছে কারণ আমাদের প্রিন্সিপালের সাথে পরীক্ষার কেন্দ্রের লোকের গোলমাল হয়েছিলো এমনটা আমরা শুনেছি।
অকৃতকার্য ছাত্রী জয়নবের পিতা ইসমাইল মন্ডল বলেন আমার মেয়ের পড়া লেখার জন্য যখন যা প্রয়োজন স্যারেরা যা চেয়েছে তাই দিয়েছি এবং সে নিয়মিত মাদ্রাসায় যেতো তার পর ও কেন ফেল করলো তা বুঝতে পারছি না।
সাধারণ গ্রাম বাসী মিজানুর রহমান লিটন বলেন পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ার পিছনে শিক্ষকদের ও দোস আছে যদি ছাত্র ছাত্রী না পড়া লেখা করে অভিভাবক সমাবেশ করে বিষয়টি জানো উচিত ছিলো কিন্তু তারা অভিবাবক সমাবেশ করে না।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্ন শিক্ষকরা বলেন আমরা সঠিক ভাবে ক্লাস নেই আমাদের কোন ভূল ছিলো না তবে হয়ত কারিগরি ত্রুটির কারণে এমন ঘটনা হয়েছে।
পুর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সাহেব আলী বলেন, আসলে শতভাগ ফেল করার বিষয়ে জবাব দেওয়ার মত ভাষা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের খাতা পূর্নঃ মূল্যায়নের জন্য বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা হবে।
এ ছাড়া উপজেলায় আরও পাঁচটি মাদ্রাসায় পাসের হার ২০ শতাংশের নিচে। এর মধ্যে থুপসারা দাখিল মাদ্রাসায় ২৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন পাস করেছে।
উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মুনছুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ফলাফল কেন এমন হলো, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যে সকল প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কম, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি কোনোভাবেই স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি নিজেই বিষয়টি তদারকি করবো।