ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হলেও তার উন্মাদনা এখনও মানুষের হৃদয়ে দোলা দিচ্ছে। সেই আবেগকে আরও উজ্জীবিত করতে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রিমিয়ার সিমেন্ট ও মেসার্স হাফিজ স্টোরের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক প্রাণবন্ত প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। ‘বিশ্বকাপ মাতোয়ারা’ কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত এ খেলায় অংশ নেন জেলার বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী, ডিলার ও রিটেইলাররা।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় কমলনগরের হাজিরহাট সরকারি মিল্লাত একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচ ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাঠজুড়ে ছিল দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়। খেলায় মুখোমুখি হয় লক্ষ্মীপুর সদর অ্যাডভান্স প্রিমিয়ার সিমেন্ট টিম এবং কমলনগর-চন্দ্রগঞ্জ স্পেশাল প্রিমিয়ার সিমেন্ট সমন্বয়ে গঠিত দল।
খেলায় রেফারি হিসেবে ছিলেন - আহামদ উল্লাহ- বিজনেস পার্টনার, কোমলনগর।
খেলার শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়রা আক্রমণাত্মক ও দৃষ্টিনন্দন ফুটবল উপহার দেন। মাঠে তাদের দক্ষতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকে এমন আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে জানান আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার সিমেন্টের জেলা পরিবেশক মেসার্স হাফিজ স্টোরের পরিচালক জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ব্যবসায়িক সম্পর্কের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। খেলাধুলা মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি একে অপরের মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় করে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর এরিয়ার এরিয়া ম্যানেজার শামীম হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মদিনা ট্রেডার্সের পরিচালক হাজি হারুনুর রশিদ হারুন, রামদয়াল রিয়াজ ট্রেডার্সের পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন, আব্বাস ব্রাদার্সের পরিচালক জামাল উদ্দিন আব্বাস, আলম এন্টারপ্রাইজের পরিচালক জাহাঙ্গীরআলম। হাজিরহাট কমলনগর,মেসার্স পপেল ট্রেডার্স এর পরিচালক মেহেদী হাসান পপেলসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী, রিটেইলার ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত কমলনগর টিম ৪-৩ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ম্যাচজুড়ে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
খেলা শেষে প্রধান অতিথি জহিরুল ইসলাম বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন। একই সঙ্গে সেরা খেলোয়াড়কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজনকে আরও উপভোগ্য করতে মধ্য বিরতিতে নাস্তা ও পানীয় এবং খেলা শেষে ডিনারের ব্যবস্থা করা হয়।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও ব্যবসায়ী ও রিটেইলারদের অংশগ্রহণে এ ধরনের ক্রীড়া ও সামাজিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে। উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।