“পঞ্চগড়ের আকাশে কথা বলা ইয়াশা নূর সানা"কথোপকথনের দিনলিপির ২
প্রিয় রজনীগন্ধার—
সকাল-সন্ধ্যার ব্যস্ততা শেষে, যখন চাঁদ কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশে লাজুকভাবে উঁকি মারে, ঠিক তখনই আমি এক অজানাকে জানার পথে হাঁটি। কুৎসিত, কদাকার এক পথিকের মতো—হোয়াটসঅ্যাপের নীল পর্দায় ঢুকে পড়ি।
গতকালের দিনলিপি থেকে জন্ম নেওয়া অজানা স্মৃতিতে, অনুমতিহীন এক পুষ্পের বিচরণ ঘটাই। জানি না—এটা অপরাধ, না একান্ত মানুষের দুর্বলতা।
হঠাৎ একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আসে। শব্দগুলোয় ক্ষোভের হালকা আঁচ, বিরক্তির নরম ছায়া—যদিও লেখনীতে সে সরাসরি প্রকাশ করে না। পরে ফোন কলে সব প্রমাণিত হয়। শীতের প্রতীক্ষাভরা রাতে, অনলাইন আলো নিভে যায়। আর আসে না সে। দীর্ঘ হয় আমার প্রতীক্ষার প্রহর।
কারণ আমার প্রতীক্ষা কেবল সময়ের নয় :
হৃদয়ের গহীন গভীর থেকে একদিন গোলাপ ফোটার অপেক্ষা।
যে গোলাপ হাসবে চাঁদের জোছনার মতো।
সে রন্ধনশালার সব কাজ জানে—এ কথা আমি জানি।
কিন্তু জানি না, কল্পনার সেই মিষ্টি, মায়াবী, লাবণ্যময় মুখের মানুষটির—নীল পদ্মের মতো চোখের অধিকারী ইয়াশা নূর সানা’র রান্নার স্বাদ কেমন।
তবু অজানা কোনো বিশ্বাস হৃদয়ে বাসা বাঁধে:
তার হাতের রান্না একদিন আসবে আমার লাঞ্চে, ডিনারে, ব্রেকফাস্টে।
সে মাছ ধোয়াতে ভীষণ পরিষ্কার।
সে রান্না জানে—না জানে খুব ভালো, তা নিয়েও একধরনের নিশ্চয়তা কাজ করে আমার ভেতর।
আর যখন একাকিত্বের নিরালায় বসে থাকি,
স্বপ্নের সানাকে ভাবি—
ঠিক তখনই তার মুখের সেই মিষ্টি শব্দ দুটো কানে বাজে—
“আরে না… আরে না…”
শব্দগুলো মধুর প্রতিধ্বনির মতো আমার নিঃসঙ্গতার দেয়ালে ফিরে ফিরে আসে।
আমি অপেক্ষা করি।
আমি আশা রাখি।
আমি একা থাকি—তবু বিশ্বাস ছাড়ি না।
কারণ কিছু প্রতীক্ষা মানুষকে ভাঙে না,
বরং একাকিত্বের ভেতর থেকেও তাকে আলোর দিকে হাঁটতে শেখায়।
চলমান