পুলিশের বাধা, লুটপাট-ভাঙচুর ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ; ওসির দাবি—পরিস্থিতি স্বাভাবিক, আহতের ঘটনা মিথ্যা
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে প্রায় সাত মাস ধরে নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেন না আলাউদ্দিন গংসহ প্রায় ২০০টি পরিবার—এমন অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও গ্রামে প্রবেশ করতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একই সঙ্গে এ ঘটনায় পুলিশের অভিযানে অন্তত চারজন আহত এবং পাঁচজনকে আটক করার অভিযোগও করেছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, তারা আইনগতভাবে জামিনে মুক্ত থাকার পর নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে গেলে পুলিশ তাদের গ্রামে অবস্থান করতে দেয়নি। তাদের অভিযোগ, একই মামলার অপর পক্ষের লোকজন নির্বিঘ্নে গ্রামে অবস্থান করলেও তাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ করা হচ্ছে।
পুলিশের এমন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি এখানে তিনজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করতেই এসেছি। অন্য কোনো সমস্যা নেই।”
তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, পুলিশ তাদের উদ্দেশে বলেছেন, “আপনারা এখানে থাকতে পারবেন না। থাকতে হলে এমপি সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।”
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র প্রকাশ্যে লুটপাট ও ভাঙচুর চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ২০০টিরও বেশি পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু ঘরের আসবাবপত্র নয়, প্রায় ৩০টিরও বেশি বাড়ির গ্রিল, দরজা, জানালা ও গেট কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, মামুন, জিয়া, জীবন, ওবায়েদুল হক, কামাল, শেখ ফরিদ, সজিব, মুন্না, রিংকা, ইউসুফ, ফখরুলসহ ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল এসব ঘটনায় জড়িত। তাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। তবে অভিযুক্তদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত, লুটপাট ও ভাঙচুর চললেও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। ফলে গ্রামের বড় একটি অংশ প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, “বারবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো কার্যকর প্রতিকার পাইনি। নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে ওসি শাহীনুর আলম বলেন, “এ মামলায় অজ্ঞাতনামা ৭০ থেকে ৮০ জনের নাম রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে থানায় আনা হয়েছে। পুলিশের আঘাতে চারজন আহত হওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বর্তমানে আলিয়ারা গ্রামের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যারা প্রবেশ করেছিলেন, তারা পরে চলে গেছেন।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্যে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।