নোয়াখালীতে ধর্মীয় সমাবেশের নামে প্রশাসনের আরোপিত শর্ত লঙ্ঘন করে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, মিথ্যাচার ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সংগঠনের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে হেযবুত তওহীদের নোয়াখালী জেলা সভাপতি রিপন হোসেন স্বাক্ষরিত এক লিখিত বার্তায় এসব অভিযোগ ও দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে আয়োজিত একটি সমাবেশে প্রশাসনের অনুমোদনের শর্ত অমান্য করে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে কওমি ও হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। সংগঠনটির দাবি, জেলা পুলিশের অনুমোদনপত্রে কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের বিরুদ্ধে বক্তব্য না দেওয়ার শর্ত থাকলেও সমাবেশে তা লঙ্ঘন করা হয়েছে।
হেযবুত তওহীদের অভিযোগ, গত ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন মসজিদে বয়ান এবং হ্যান্ডবিল বিতরণের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হেযবুত তওহীদ ইসলামের আকিদা-বিশ্বাসে আস্থাশীল হওয়া সত্ত্বেও সংগঠনটির সদস্যদের ‘কাফের’ আখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংগঠনটির দাবি, দীর্ঘ ৩১ বছরে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় আদালত থেকে তারা খালাস পেয়েছেন এবং আইন অমান্য করার কোনো নজির নেই।
এছাড়া ২০১৬ সালে গুজবকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে সংগঠনটির শীর্ষ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের বাড়িতে হামলার ঘটনা এবং ওই সময় সংগঠনের দুই সদস্য নিহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে সাম্প্রতিক হুমকি ও উসকানিতে সদস্যদের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের শর্ত লঙ্ঘন করে হত্যার হুমকি ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট বক্তা ও আয়োজক কমিটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে হেযবুত তওহীদ। পাশাপাশি নোয়াখালীসহ সারাদেশে সংগঠনটির সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে, সোনাইমুড়ীর পোরকরা এলাকায় সংগঠনটির ইমামের বাড়ি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নিরাপত্তা জোরদার করা, অভিযোগের জবাবে পাল্টা সমাবেশের অনুমতি দেওয়া এবং বিতরণ করা হ্যান্ডবিলের জবাব জনগণের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ সৃষ্টি করা।
বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাম্প্রতিক সমাবেশে উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নোয়াখালীর প্রশাসনসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
হেযবুত তওহীদের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণ ও আইনানুগ উপায়ে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা মানুষের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি ধর্মের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ ও ধর্মের বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে দলিলভিত্তিক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, এ কারণে একটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠী সংগঠনটির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত ও কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে।
তবে সমাবেশে বক্তব্য দেওয়া হেফাজত ও কওমি সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের বক্তব্য কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।