বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানসহ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী চার শতাধিক রাজনীতিবিদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগ। এতে তাদের পরিচয় নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে।
‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০২২’-এ যাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি ছিল, নতুন অধ্যাদেশে তাদের সহযোগীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এতে শুধু প্রবাসী সরকার নয়, মুক্তিযুদ্ধকালীন গুরুত্বপূর্ণ চার শ্রেণির পেশাজীবীকেও একই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই শ্রেণিগুলোর মধ্যে রয়েছে: বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখা পেশাজীবী, মুজিবনগর সরকারের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দূত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও সাংবাদিক এবং স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্যরা।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম ১০ মার্চ অধ্যাদেশের খসড়ায় স্বাক্ষর করেন। এরপর ২১ মার্চ সমকালে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। মে মাসে উপদেষ্টা পরিষদ, আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত হয়।
আইন অনুযায়ী, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে এখন শুধুমাত্র তারা গণ্য হবেন, যারা ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ পর্যন্ত দেশের ভেতরে বা ভারতের ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া নির্যাতিত নারী (বীরাঙ্গনা) ও যুদ্ধে আহতদের চিকিৎসায় নিয়োজিত ফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরাও এই স্বীকৃতির আওতায় থাকবেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় বর্তমানে ৩৬টি শ্রেণি ছিল। নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি শ্রেণি—যেমন: গণপরিষদ সদস্য, বিসিএস খেতাবপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রবাসী সংগঠক, মুজিবনগর সরকার সংশ্লিষ্টরা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্যরা—মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
জেএইচ/ইডি