বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি পুরোনো প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে—বিরোধী দল কি শুধু ক্ষমতার বিরোধিতা করবে, নাকি রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের পক্ষেও রাজনৈতিকভাবে দৃঢ় অবস্থান নেবে?
বর্তমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে এই প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর গণভোটে জনগণের সামনে শুধু একটি সাধারণ রাজনৈতিক প্রশ্ন রাখা হয়নি; জুলাই জাতীয় সনদের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাবও জনগণের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। গণভোটের সরকারি কাঠামোয় জুলাই সনদের সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নকে একটি জনগণভিত্তিক ম্যান্ডেট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সেই গণভোটের পর এখন প্রশ্ন—রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কি সেই সংস্কারের আলোকে হবে, নাকি পুরোনো সাংবিধানিক কাঠামোতেই ফিরে যাওয়া হবে?
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক ভিত্তি কোথায়?
বর্তমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮(১) অত্যন্ত স্পষ্ট:
«“There shall be a President of Bangladesh who shall be elected by members of Parliament in accordance with law.”»
অর্থাৎ বর্তমান সংবিধানের অধীনে রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না; সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন।
এখানেই জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাবিত কাঠামোর সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থার পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ।
জুলাই সনদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসংক্রান্ত প্রস্তাবে বলা হয়েছিল—রাষ্ট্রপতি সংসদের উভয় কক্ষের সদস্যদের গোপন ব্যালটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নির্বাচিত হবেন। অর্থাৎ একটি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতির সঙ্গে বিষয়টি সরাসরি যুক্ত ছিল।
ফলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—
যে জনগণ সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে, সেই সংস্কারের কাঠামো কার্যকর করার আগে পুরোনো এককক্ষীয় সংসদীয় পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা কি গণভোটের রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
এটি নিছক রাজনৈতিক প্রশ্ন নয়; এর সাংবিধানিক দিকও রয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৭: ক্ষমতার মালিক জনগণ
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭(১) ঘোষণা করে—প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ হতে হবে সংবিধানের অধীন ও সংবিধানের কর্তৃত্বে।
আর অনুচ্ছেদ ৭(২) সংবিধানকে প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন হিসেবে ঘোষণা করেছে।
অতএব গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে সাংবিধানিক সংস্কারের প্রতি সম্মতি দিয়েছে, সেটিকে কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে—এই প্রশ্নকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
তবে এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পার্থক্য মনে রাখতে হবে।
গণভোটের ফলাফল এবং সংবিধানের লিখিত বিধান এক জিনিস নয়। সংবিধানের বিদ্যমান বিধান পরিবর্তনের জন্য সাংবিধানিক সংশোধনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
অনুচ্ছেদ ১৪২: সংবিধান সংশোধনের পথ
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুযায়ী সংবিধানের কোনো বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা বিলোপ করতে হলে সংসদীয় আইনের মাধ্যমে তা করতে হয় এবং সংশোধনী বিল পাসের জন্য সংসদের মোট সদস্যসংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন।
এখানেই বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের মূল প্রশ্নটি।
যদি বলা হয়—
“গণভোটে জনগণ জুলাই সনদের সংস্কার অনুমোদন করেছে”,
তাহলে পরবর্তী প্রশ্ন হলো—
“সেই অনুমোদিত সংস্কারকে সংবিধানের কার্যকর বিধানে রূপান্তর করার সাংবিধানিক পদক্ষেপ কোথায়?”
কারণ শুধু রাজনৈতিক ম্যান্ডেট থাকলেই সংবিধানের বিদ্যমান অনুচ্ছেদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়ে যায়—এমন সরল বিধান বর্তমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪২-এ নেই।
অতএব রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সরাসরি “আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ” বলে দেওয়ার আগে এই সাংবিধানিক পার্থক্যটি স্বীকার করা জরুরি। বরং শক্তিশালী প্রশ্নটি হলো—
গণভোটের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে পুরোনো কাঠামো ব্যবহার করা কি গণভোটের উদ্দেশ্য ও রাজনৈতিক ম্যান্ডেটকে খর্ব করছে?
এবার আসি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সাংবিধানিক বিতর্কের একটি হলো অনুচ্ছেদ ৭০।
বর্তমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭০ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে।
অর্থাৎ একজন এমপি সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হলেও সংসদে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে গেলে তার আসন হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
এই বিধানই জুলাই জাতীয় সনদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার-আলোচনার বিষয় ছিল।
জুলাই সনদে অনুচ্ছেদ ৭০ পরিবর্তনের প্রস্তাব ছিল—অর্থবিল ও অনাস্থা/আস্থাভোটের মতো নির্দিষ্ট বিষয় ছাড়া সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
অর্থাৎ যে রাজনৈতিক সংস্কারের কথা এতদিন বলা হয়েছে তার একটি মৌলিক লক্ষ্য ছিল—
সংসদ সদস্যকে দলীয় হুইপের বাইরে গিয়ে জনগণের বিবেক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব অনুযায়ী ভোট দেওয়ার অধিকতর স্বাধীনতা দেওয়া।
কিন্তু আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেই যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে তাঁর সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে—
তাহলে জুলাই সনদের অনুচ্ছেদ ৭০ সংস্কারের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেন পুরোনো কাঠামোয়?
আরও বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন: বিরোধী দল কেন অংশ নিচ্ছে?
এখানে বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন আছে।
একটি বিরোধী দল যদি মনে করে বর্তমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি জুলাই গণভোটের ম্যান্ডেটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তাহলে তার সামনে অন্তত তিনটি রাজনৈতিক পথ ছিল—
১. সাংবিধানিক আপত্তি তোলা;
২. সংসদীয় ও রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন দাবি করা;
৩. অথবা নির্বাচনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা—এই অংশগ্রহণ কোনোভাবেই গণভোটের ম্যান্ডেট পরিত্যাগের অর্থ নয়।
কিন্তু যদি কোনো দল একদিকে গণভোটের সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি করে, অন্যদিকে সেই পুরোনো কাঠামোর অধীনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেয় এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক বৈধতা প্রদান করে, তাহলে রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।
এখানেই সমালোচনার জায়গা।
বিরোধিতা কি কেবল নির্বাচনে অংশ নেওয়া, নাকি প্রয়োজনে বিদ্যমান ক্ষমতার কাঠামোকেও চ্যালেঞ্জ করা?
‘গৃহপালিত বিরোধী দল’—এই শব্দটি কেন বিতর্কিত?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অভিধানে “গৃহপালিত বিরোধী দল” কথাটি নতুন নয়। অতীতে জাতীয় পার্টিকে ঘিরে এই অভিযোগ বহুবার রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে।
তবে কোনো বর্তমান দলকে সরাসরি “গৃহপালিত” বলা একটি রাজনৈতিক মূল্যায়ন—এটি আদালতের প্রতিষ্ঠিত কোনো আইনগত পরিচয় নয়।
তবু রাজনৈতিক আচরণের তুলনা করা যায়।
যদি কোনো বিরোধী দল—
- সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়,
- সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাঠামোর মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে,
- জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আবার সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নবিরোধী প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়,
- এবং শেষ পর্যন্ত এমন একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক বৈধতা দেয় যার সাংবিধানিক কাঠামো নিয়েই তারা প্রশ্ন তুলেছে,
তাহলে জনগণের একটি অংশ সেই দলকে “নিয়ন্ত্রিত বিরোধিতা” বা “জাতীয় পার্টি-ধাঁচের বিরোধী রাজনীতি” হিসেবে দেখতে পারে।
এটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ—আইনি রায় নয়।
বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা: এখানেই মূল পরীক্ষা
২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ নির্বাচিত আসনের মধ্যে ২০৯টি আসন পেয়ে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
এই সংখ্যাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের মোট সদস্যসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন।
অর্থাৎ রাজনৈতিক বাস্তবতায় বর্তমান সরকার চাইলে সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংসদীয় শক্তি রাখে—এটাই বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য।
তাই এখন প্রশ্নটি কেবল বিরোধী দলের নয়।
সরকার কি গণভোটের ম্যান্ডেটকে পূর্ণাঙ্গ সাংবিধানিক সংস্কারে রূপ দেবে?
আর বিরোধী দলের প্রশ্ন—
তারা কি সেই সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে চাপ দেবে, নাকি শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়ে নিজেদের সংসদীয় উপস্থিতি প্রদর্শন করেই দায়িত্ব শেষ করবে?
গণভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ঝুঁকি কোথায়?
জুলাই জাতীয় সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব ছিল এবং এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সংসদ, বিচার বিভাগ, নির্বাচনব্যবস্থা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল।
গণভোটের উদ্দেশ্যই ছিল এই বৃহৎ সংস্কার কাঠামোর ওপর জনগণের মতামত নেওয়া।
তাই কোনো রাজনৈতিক দল যদি গণভোটের ফলাফলকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য সুবিধাজনক অংশে গ্রহণ করে কিন্তু অসুবিধাজনক অংশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, তাহলে জনগণের কাছে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে—
তাহলে গণভোটের প্রতি আনুগত্য কোথায়?
গণভোটকে মানতে হলে শুধু ফলাফলকে উদ্ধৃত করলেই হবে না; তার রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের জন্যও চাপ সৃষ্টি করতে হবে।
জাতীয় পার্টির রাজনীতির পুনরাবৃত্তি কি?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতীয় পার্টিকে ঘিরে “গৃহপালিত বিরোধী দল” ধারণাটি তৈরি হয়েছিল মূলত এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে, যেখানে বিরোধী দলের উপস্থিতি থাকলেও ক্ষমতাসীন কাঠামোর বিরুদ্ধে কার্যকর রাজনৈতিক ভারসাম্য সৃষ্টি নিয়ে প্রশ্ন ছিল।
আজ যদি নতুন কোনো বিরোধী দল একই ধরনের আচরণ করে—অর্থাৎ জনগণের সামনে কঠোর বিরোধিতার ভাষা ব্যবহার করে কিন্তু সংসদীয় বাস্তবতায় সরকারের সাংবিধানিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করার পরিবর্তে সেই কাঠামোর মধ্যেই নিজেদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ রাখে—তাহলে জনগণ সেই তুলনা টানতেই পারে।
তবে ইতিহাসের শিক্ষা হলো—
বিরোধী দল হওয়া আর কার্যকর বিরোধী শক্তি হওয়া এক বিষয় নয়।
সংসদে কয়েকটি আসন থাকা বিরোধী রাজনীতির প্রমাণ হতে পারে; কিন্তু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, সাংবিধানিক বিচ্যুতি বা জনগণের ম্যান্ডেট উপেক্ষার বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নেওয়াই প্রকৃত বিরোধী রাজনীতির পরীক্ষা।
শেষ কথা: নির্বাচন নয়, এখন প্রশ্ন সংস্কারের
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বর্তমান বিতর্ককে তাই শুধু “কে প্রার্থী দিয়েছে, কে জিতবে”—এই হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে মূল বিষয়টি আড়ালে পড়ে যাবে।
মূল প্রশ্ন হলো—
১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জনগণ যে সাংবিধানিক পরিবর্তনের ম্যান্ডেট দিয়েছে, তা কি বাস্তবায়িত হবে?
অনুচ্ছেদ ৪৮-এর বর্তমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনব্যবস্থা কি জুলাই সনদের প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী পরিবর্তিত হবে?
অনুচ্ছেদ ৭০ কি এমনভাবে সংস্কার হবে, যাতে সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে অধিকতর স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও ভোট দিতে পারেন?
অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুসরণ করে গণভোটের ম্যান্ডেটকে কি কার্যকর সাংবিধানিক সংশোধনে রূপ দেওয়া হবে?
আর বিরোধী দলগুলোর প্রতিও জনগণের প্রশ্ন থাকা উচিত—
আপনারা কি সত্যিই সংস্কারের বিরোধী নন, নাকি শুধু ক্ষমতার বাইরে থেকে ক্ষমতার ব্যবস্থার অংশ হতে চান?
কারণ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব শুধু ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া নয়; বরং জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট রক্ষা করা, সরকারের সাংবিধানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন হলে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধেও সাংবিধানিক লড়াই করা।
তা না হলে “বিরোধী দল” নামটি থাকলেও জনগণের চোখে প্রশ্ন থেকেই যায়—
এটি কি সত্যিকারের বিরোধিতা, নাকি পুরোনো ‘জাতীয় পার্টি মডেল’-এর নতুন সংস্করণ?
লেখক: মোঃ কামরুল হাসান
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মী