দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, ‘ জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ আন্দোলন সারা দেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে গেলে মানুষ তাঁকে দেখেই বলে, ‘ওই যে জাগো বাহে আসছে ’ বলে সম্বোধন করেন ।
গতকাল শনিবার রাতে পাটগ্রাম উপজেলার সাহেবডাঙ্গা স্টেডিয়াম মাঠে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির আওতায় পাটগ্রাম উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গেলে মানুষ তাঁকে ‘জাগো বাহে’ আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে পরিচয় করিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীও তাঁকে দেখলে ‘জাগো বাহে আসছে’ বলে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতিও প্রায়ই ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ আন্দোলনের কথা বলেন।
তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে দুলু বলেন, তিস্তার চরে ৪৮ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্দোলনটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দেশে -বিদেশেও এটি আলোচিত হচ্ছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন, নেদারল্যান্ডস, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। তবে সমীক্ষা, নকশা ও বাজেট ছাড়া এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই এ বিষয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ২০২৭ সালে এ প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। প্রকল্পের নকশা নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), মালয়েশিয়া ও চীনের পৃথক বিশ্লেষণ রয়েছে। তবে প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সময় নেওয়া হচ্ছে।
দুলু বলেন, ‘ জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ আন্দোলন যেভাবে সারা দেশে - বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, একইভাবে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচিও সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী বলেন, রাস্তাঘাট, স্কুল, মন্দির, মসজিদ—সবকিছুই নির্মাণ করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু যদি সামাজিক অবক্ষয় হয়, বিশেষ করে আমাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ যুবসমাজ ও ছাত্রসমাজ যদি মাদক ও মোবাইল ক্যাসিনোর পাল্লায় পড়ে সর্বস্বান্ত হয়ে যায়, তাহলে আগামী দিন খুবই হতাশাজনক হয়ে যাবে। তাই এখনই সময় আমাদের সচেতন হতে হবে। আমাদের যুবসমাজকে অপসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে বের করে আনতে হবে। আপনার ভালো করেই জানেন ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন পরিচালনা করছি। এই সংগঠনে ওয়ার্ড থেকে ইউনিয়ন, ইউনিয়ন থেকে উপজেলা এবং উপজেলা থেকে জেলা পর্যায়ে নেতৃত্ব থাকবে। প্রত্যেক ওয়ার্ড পর্যায়ে ৩০ জন করে সদস্য থাকবেন। তাঁরা অবশ্যই সমাজের ভালো মানুষ হবেন। তাঁদেরকেই ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কমিটির সদস্য হিসেবে নেওয়া হবে, যাঁরা কোনো ধরনের অসামাজিক কাজের সঙ্গে জড়িত নন।
‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কমিটিতে থাকবেন শিক্ষক, চিকিৎসক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, কৃষক, কবি-সাহিত্যিক, সামাজিক সংগঠনের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাঁদের লক্ষ্য একটাই—বাল্যবিবাহ, যৌতুক, মোবাইল ক্যাসিনো, নারী নির্যাতন, স্কুল- কলেজের ছাত্রীদের ইভটিজিং, জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এ সংগঠন কাজ করবে। স্বেচ্ছাসেবীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতার পাশাপাশি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সচেতন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন।
তিনি বলেন, এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সামাজিক সমস্যাগুলো মোকাবিলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এ জন্য স্বেচ্ছাসেবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কমিটি কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা ও পৌরসভার কমিটির সদস্যদের দীর্ঘ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মন্ত্রী নিজ হাতে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পোশাক সদস্যদের হাতে তুলে দেন। যুবসমাজকে খেলাধুলায় ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তাই যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, পাটগ্রাম পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আফজাল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাজু পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা।