লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে হাতীবান্ধা উপজেলা সদরের সোনালী ব্যাংক চত্বরসংলগ্ন লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম সারডুবী এলাকার তৈয়ব আলীর ছেলে মো. জহুরুল ইসলাম (৫০) এবং দক্ষিণ গুড্ডিমারী এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল মজিদ (৪৮)। দুর্ঘটনায় তারা ঘটনাস্থলেই মারা যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুড়িমারী স্থলবন্দরগামী একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এরপর ট্রাকটি সড়কের পাশে থাকা একটি মোটরসাইকেলের শোরুমে ঢুকে পড়ে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে থাকা যাত্রীদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আহতদের মধ্যে মো. রশিদুল ইসলাম (৩৫), পিতা—আজিম উদ্দিন, পূর্ব বেজগ্রাম; রিনা বেগম (৪৬), স্বামী—জহুরুল ইসলাম, পশ্চিম সারডুবী; এবং মো. রবিউল ইসলাম, পিতা—আব্দুল গফুর, উত্তর সিংগিমারী—এর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া মো. ফিরোজ হোসেন, পিতা—মৃত হাফিজ উদ্দিন, দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে যান।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে বেপরোয়া গতি ও অসতর্কভাবে যান চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তারা মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।