সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বাজার এলাকায় অবস্থিত লক্ষ্মীপুর কারিগরি ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট (লক্ষ্মীপুর কারিগরি স্কুল অ্যান্ড বি.এম কলেজ) দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রমহীন অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সালে ডা. এস এম ওসমান গনি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির EIIN নম্বর ১৩৮০০৫ এবং প্রতিষ্ঠান কোড ২৫১৯৪। প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ ছিলেন মো. আনিছুর রহমান। বর্তমানে মো. নাজির হোসেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১০টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের সব কক্ষ তালাবদ্ধ। সেখানে কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষা কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বরং কয়েকটি কক্ষে ভুট্টা ও ধান সংরক্ষণ করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে গুদামঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আকবর আলী অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীকে আয়া পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ২০১২ সালে দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত চাকরি দেওয়া হয়নি, টাকাও ফেরত পাননি।
একই গ্রামের মো. আব্দুল রাজ্জাক রঞ্জু বলেন, তার ছোট ভাইকে অফিস সহকারী পদে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এর মধ্যে এক লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। পরে কিছু টাকা ফেরত পেলেও পুরো অর্থ এখনও ফেরত পাননি।
মো. শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে লাইব্রেরিয়ান পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু চাকরি হয়নি, টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। তার দাবি, তার মতো অন্তত আটজনের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকার বেশি নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ডা. এস এম ওসমান গনির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হ্যাঁ, অনেকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে অনেকের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিষ্ঠানটি তাদের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি পুনরায় চালু করে স্থানীয়দের সমন্বয়ে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কাজীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছাকমান আলী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত নয়। তাই আমাদের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সীমিত।
কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এবং চাকরির নামে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন কার্যকর তদন্ত করছে না। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।