কয়েকদিন আগেও একটি পত্রিকায় যার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ ছাপা হয়েছিল, আজ তিনিই জেলার পাঁচটি থানার মধ্যে শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে সম্মাননা পেলেন। অনুসন্ধানে ওই অভিযোগের কোনো ভিত্তি মেলেনি। বরং সততা, দায়িত্বশীলতা আর জনগণের পাশে থাকার কারণেই জয়পুরহাট জেলা পুলিশের মুকুটে নতুন করে যোগ হলো ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুক্তারুল আলমের নাম।
রোববার ৯ আগস্ট জয়পুরহাট পুলিশ লাইন্সে জমকালো আয়োজনে জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে ওসি মুক্তারুল আলমের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন জেলা পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম। এ সময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সুপার জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান, মামলা তদন্ত ও নিষ্পত্তিসহ সার্বিক কর্মকাণ্ডে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখায় তাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ক্ষেতলাল থানার চিত্র বদলাতে শুরু করে। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন তিনি। গত এক বছরে ৪০টির বেশি মাদক মামলা এবং দেড় শতাধিক আসামি গ্রেফতার হয়েছে তার নেতৃত্বে। বাজারের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রামের মোড়, কোথাও এখন আর প্রকাশ্যে নেশার আড্ডা চোখে পড়ে না। মামলা নিষ্পত্তিতেও তিনি দেখিয়েছেন দক্ষতা। পেন্ডিং মামলার সংখ্যা ৬০ শতাংশ কমিয়ে এনেছেন। ভুক্তভোগীরা বলেন, ওসি সাহেব নিজে ফোন করে মামলার খোঁজ নেন। আগে থানায় যেতে ভয় লাগত, এখন সাহস করে যাওয়া যায়।
জনবান্ধব পুলিশিংয়েও রোল মডেল হয়ে উঠেছেন তিনি। রাত দুইটায়ও থানার গেট খোলা থাকে। হারানো মোবাইল, ছিনতাই বা ছোটখাটো অভিযোগ পেলেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, গরিব মানুষের মামলার খরচও অনেক সময় নিজে দিয়েছেন তিনি। ঘুষ তো দূরের কথা, থানায় গিয়ে কেউ ফিরে গেছে এমন নজির নেই।
সম্প্রতি একটি পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশের পর জেলা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে। তদন্তে ওই অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উল্টো তার কর্মকাণ্ডেই প্রমাণ হয়েছে, কাজ দিয়েই মানুষের আস্থা অর্জন করা যায়।
এই স্বীকৃতিতে ক্ষেতলাল থানার প্রতিটি পুলিশ সদস্যের মাঝে দেখা গেছে উৎসাহ ও উদ্দীপনা। পুরস্কার গ্রহণের পর ওসি মুক্তারুল আলম বলেন, এই সম্মান আমার একার নয়। এটি ক্ষেতলাল থানার সকল সদস্যের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল। মানুষের সেবা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই ক্ষেতলালবাসী যেন শান্তিতে ঘুমাতে পারে।
জেলার শ্রেষ্ঠ ওসির স্বীকৃতি পেয়ে ক্ষেতলালবাসীও গর্বিত। তাদের প্রত্যাশা, ওসি মুক্তারুল আলমের নেতৃত্বে ক্ষেতলাল আরও নিরাপদ ও দুর্নীতিমুক্ত থানা হিসেবে গড়ে উঠবে।